শিশুশ্রম শুধু শ্রম আইন লঙ্ঘনের বিষয় নয়, এটি একটি শিশুর শৈশব, স্বপ্ন ও মানবিক বিকাশকে ধ্বংস করে। শৈশব কেড়ে নিয়ে কখনো মানবিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
Advertisement
সোমবার (২৯ জুন) বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই), চট্টগ্রাম এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি।’
জেলা প্রশাসক বলেন, একজন শিশু যদি জন্মের পর থেকেই কারখানার তপ্ত আগুনের পাশে বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় হয়, তাহলে সে স্বপ্ন দেখতেই শেখে না। আর যে শিশু নিজেই স্বপ্ন দেখতে শেখেনি, সে ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজকে নতুন স্বপ্ন দেখাবে কীভাবে?
Advertisement
তিনি বলেন, শিশুশ্রম বন্ধে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না। রাষ্ট্র, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পরিবার, গণমাধ্যম ও সমাজকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে শিশুদের এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে তারা বিদ্যালয়ে যাবে, খেলাধুলা করবে এবং স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে উঠবে।
শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, শ্রমিকদের পরিশ্রমেই শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। তাই শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাও মালিকদের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, সামান্য মুনাফার জন্য কোনো শিশুর শৈশব ও ভবিষ্যৎ কেড়ে নেওয়া উচিত নয়। প্রতিটি উদ্যোক্তার উচিত প্রাপ্তবয়স্ক কর্মী নিয়োগ দেওয়া এবং প্রতিটি শিশুকে নিজের সন্তানের মতো বিবেচনা করা।
জেলা প্রশাসক জানান, শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ৪৩টি খাতের মধ্যে কয়েকটি খাত এরই মধ্যে শিশুশ্রমমুক্ত হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে প্লাস্টিক শিল্প ও ইটভাটা খাতকে শতভাগ শিশুশ্রমমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
Advertisement
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের উপ-মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান, বিজিএমইএর পরিচালক এনামুল আজিজ চৌধুরী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তা সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এমআরএএইচ/এমআরএম