খেলাধুলা

টিকিট ছাড়াই স্টেডিয়ামে ঢোকার চেষ্টা, গ্রেপ্তার চার আর্জেন্টাইন সমর্থক

জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচ ঘিরে ঘটেছে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। টিকিট ছাড়াই স্টেডিয়ামে প্রবেশের চেষ্টা করায় চার আর্জেন্টাইন সমর্থককে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুধু গ্রেপ্তারই নয়, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও হয়েছে, মার্কিন ভিসা বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং আর্জেন্টিনার স্টেডিয়ামেও দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

Advertisement

ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার টেক্সাসের ডালাসে, যেখানে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে জর্ডানকে ২-১ গোলে হারায় লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার খেলা দেখতে হাজার হাজার সমর্থক যুক্তরাষ্ট্রে গেলেও সবার হাতে ছিল না ম্যাচের টিকিট। রিসেল (পূনর্বিক্রয়) টিকিটের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় অনেকে বাধ্য হয়ে ফ্যান ফেস্টে খেলা দেখার পরিকল্পনা করেন।

তবে চার সমর্থক ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নেন। তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে স্টেডিয়ামে ঢোকার চেষ্টা করেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাছে শেষ পর্যন্ত ধরা পড়েন সবাই।

Advertisement

ডালাস স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা তদারকিতে যুক্ত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা। ভার্জিনিয়ার লিসবার্গে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ল' এনফোর্সমেন্ট কো-অপারেশন সেন্টার এবং এফবিআই সদর দপ্তর থেকে নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল।

ডালাস পুলিশ, মার্কিন ফেডারেল এজেন্ট এবং আর্জেন্টিনা থেকে পাঠানো দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা- জাতীয় ক্রীড়া নিরাপত্তা পরিচালক ফ্রাঙ্কো বার্লিন এবং বুয়েন্স আইরেস সিটি পুলিশের স্পোর্টিং ইভেন্টস বিভাগের প্রধান কমিশনার আলেহান্দ্রো এবোলি০ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেন।

জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে ভিডিও ফুটেজ মিলিয়ে চার সমর্থকের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এরপর তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কার (ডিপোর্টেশন) প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে।

চারজনের মধ্যে প্রথম ধরা পড়েন লিয়ান্দ্রো আয়ালা। ম্যাচ শুরুর প্রায় ১৩ ঘণ্টা আগে, সকাল ১০টায় তিনি স্টেডিয়ামের পূর্ব দিকের একটি ওয়াল টপকে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন।

Advertisement

একটি প্রবেশপথের দরজা স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য খোলা থাকায় সেখান দিয়ে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি; কিন্তু নিরাপত্তা ক্যামেরায় বিষয়টি ধরা পড়ে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ তাকে আটক করে।

এর এক ঘণ্টা পর হুয়ান ইগনাসিও কাম্পোয়ামোর ও জেরার্দো নিয়েলসেন একইভাবে স্টেডিয়ামের 'গেট-জি' অংশ দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তাদের কর্মকাণ্ডও নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ১০ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

টেক্সাসের আইনে তাদের বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল ট্রেসপাস বা অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অপরাধে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা এক হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

চতুর্থ সমর্থক ফেদেরিকো লিয়াচ আরও ভিন্ন কৌশল নেন। তিনি বৈধ টিকিটধারী এক দর্শকের একেবারে পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। টিকিট স্ক্যান করে যখন গেট খুলে যায়, তখন সামনে থাকা ব্যক্তিকে ধাক্কা দিয়ে তার পেছনেই দ্রুত ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন।

কিন্তু দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি দেখে ফেলেন এবং সেখানেই তাকে আটক করেন। পরে অভিযোগ গঠনের পর তিনি জামিনে মুক্তি পেলেও তার বিরুদ্ধে ভিসা বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে পর্যটক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

চারজনকেই আর্জেন্টিনার ‘সেফ স্ট্যান্ডস’ কর্মসূচির নিষিদ্ধ তালিকায় যুক্ত করেছে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়। এর ফলে আগামী দুই বছর তারা আর্জেন্টিনার কোনো ফুটবল স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবেন না।

এখন নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচের দিকে। আগামী শুক্রবার মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে কেপ ভার্দের বিপক্ষে খেলবে লিওনেল স্কালোনির দল। মেসিকে দেখতে বিপুলসংখ্যক আর্জেন্টাইন ও লাতিন আমেরিকান সমর্থকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ফলে নিরাপত্তা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

২০২৪ কোপা আমেরিকার ফাইনালে টিকিট ছাড়া অসংখ্য সমর্থকের স্টেডিয়ামে ঢুকে পড়ার ঘটনা এখনও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মনে তাজা। তাই এবার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না আয়োজকরা।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগ সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত নিরাপত্তা, তবু আর্জেন্টিনার অগ্রযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে বিপুল সমর্থকের চাপও নিরাপত্তা পরিকল্পনার বড় অংশ হয়ে উঠেছে।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব যত এগিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে- মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও আয়োজকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আইএইচএস/