ভেনেজুয়েলায় ২৪ জুন ভোর ৬ টা ৪ মিনিটে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হা্নে জোড়া ভূমিকম্প। ১২৬ বছর পর এত শক্তিশালী ভূমিকম্পের সাক্ষী হয়েছে দেশটি মানুষ। ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৭১৯ জন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৫০৩৪ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া প্রায় ১২ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
Advertisement
এই ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে থাকতে পারে। ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হবার দিক থেকে দেশটির সরকারের প্রকাশিত সর্বশেষ সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি।
ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক কোরি শের এবং জ্যামন ভ্যান ডেন হুক ২৫ জুন সংগ্রহ করা স্যাটেলাইট রাডার তথ্য বিশ্লেষণ করে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
প্রতিবেদনটি ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA)-এর সেন্টিনেল-১ রাডার উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। গবেষকরা এটিকে প্রাথমিক মূল্যায়ন হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা ভূমির আকস্মিক পরিবর্তন শনাক্ত করে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির ইঙ্গিত দেয়। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, এই তথ্য এখনো মাঠপর্যায়ে যাচাই করা হয়নি এবং এটিকে প্রাথমিক নির্দেশক হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
Advertisement
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার সরকারের সর্বশেষ হিসাবে, সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, ভূমিকম্পে ৮৫৫টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যার মধ্যে ১৮৯টি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধসে পড়েছে।
এর মধ্যে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ইয়ারাকুই অঙ্গরাজ্যের ইউমারে শহরের ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। আর ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল একই অঙ্গরাজ্যের সান ফেলিপে শহরের ২৩ দশমিক ৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে।
প্রসঙ্গত, ১৯০০ সালের সান নারসিসো ভূমিকম্প ছিল ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প। ওই ভূমিকম্পের যার মাত্রা ছিল ৭.৬ থেকে ৭.৭। এতে দেশটির উত্তর উপকূলজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে এবং রাজধানী কারাকাস সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি ছিল।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস/আনাদোলু এজেন্সি
Advertisement
কেএম