দক্ষিণ আফ্রিকাজুড়ে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেশজুড়ে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে আসে। কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়, লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
Advertisement
গত কয়েক মাসের অস্থিরতার জেরে এরই মধ্যে হাজারো আফ্রিকান অভিবাসী দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে চলে গেছেন। নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কায় অনেক দোকানপাট বন্ধ রাখা হয় এবং বিদেশি শ্রমিকরা কর্মস্থলে যাননি।
এ পর্যন্ত সহিংসতায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া হাজারো বিদেশি নাগরিক ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তি ভাঙচুর করা হয়েছে।
অভিবাসীবিরোধী আন্দোলনের নেত্রী জাসিন্তা নগোবেসে বলেছেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আগামী ছয় মাস প্রতি সপ্তাহে বিক্ষোভ চলবে।
Advertisement
ডারবান শহরে এক সমাবেশে তিনি বলেন, দেশের সম্পদ দেশের মানুষের জন্য ব্যবহার করতে হবে। অবৈধ অভিবাসীদের দেশ ছাড়তে হবে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৩১ বছর বয়সী সিলিনডিলে জাবা অভিযোগ করেন, অবৈধ বিদেশিদের কারণে স্থানীয়রা চাকরি হারাচ্ছেন।
তিনি বলেন, মানুষ কাজ পাচ্ছে না। চাকরিগুলো অবৈধ বিদেশিরা নিয়ে নিচ্ছে। এটা ন্যায়সঙ্গত নয়।
এদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে ভোটের রাজনীতিতে সুবিধা পেতে কিছু রাজনৈতিক নেতাও অভিবাসীবিরোধী মনোভাবকে উসকে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
Advertisement
মঙ্গলবার বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্ন সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। জোহানেসবার্গের উত্তরের থেমবিসা এলাকায় বিক্ষোভকারীরা পুলিশ ও সন্দেহভাজন অভিবাসীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। এ সময় কয়েকটি স্থানে গুলির শব্দও শোনা যায়।
দেশটির সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, জোহানেসবার্গের বেনোনি এলাকায় প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে বিশেষ কৌশলগত যান মোতায়েন করা হয়।
অন্যদিকে, সোয়েটো এলাকায় বিদেশি নাগরিকদের বসতিতে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। আর ডারবানের কাছে পিটারম্যারিটজবার্গে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
পুলিশ জানিয়েছে, লুটপাটের অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্র: রয়টার্স
এমএসএম