এমকে হক, জার্মানি
Advertisement
আমাদের দেশের মানুষ প্রায়ই প্রবাসীদের ভয় দেখান- ‘জার্মানিতে তো অনেক একাকীত্ব, চারপাশটা যন্ত্রের মতো নিস্তেজ, দেশের মতো ওড়াউড়ি আর আড্ডা সেখানে পাবেন না!’
আজ দীর্ঘ ৫ বছর জার্মানির মাটিতে কাটানোর পর একটা চরম সত্য কথা বলি। হ্যাঁ, প্রবাসে একাকীত্ব আছে, কিন্তু এদেশের এই শান্তিপূর্ণ নির্জনতা আমাদের দেশের ওই তথাকথিত ‘মিথ্যা সামাজিকতার’ চেয়ে কোটি গুণ ভালো!
দেশের সেই ‘বিষাক্ত’ সামাজিকতাবাংলাদেশে আপনি যখনই একটু কর্মজীবনে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যাবেন, সমাজ আর আত্মীয়-স্বজনরা এসে সান্ত্বনা দেওয়ার বাহানায় আপনাকে হাজারটা খোঁটা দিয়ে যাবে। ‘অমুকের ছেলে তো সরকারি বড় কর্মকর্তা হলো, তুমি তো এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছো’- এই মানসিক অত্যাচার সহ্য করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে চাকরি করাকে যারা সামাজিকতা বলেন, তাদের জন্য আমার সমবেদনা!
Advertisement
জার্মানিতে কেউ আপনার ব্যক্তিগত জীবনে নাক গলাতে আসবে না। আপনি ছুটির দিনে কোনো হ্রদের পাড়ে বসে কফি খাচ্ছেন নাকি ল্যাপটপ নিয়ে নতুন কোনো প্রযুক্তি শিখছেন—তা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। এখানে মানুষ নিজের কাজ আর ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এই একাকীত্ব আপনাকে হতাশ করে না, বরং নিজের দক্ষতা বাড়ানোর এবং নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করার মানসিক শান্তি দেয়।
আরও পড়ুন প্রবাস জীবন: জার্মানিতে টাকা জমানোর কৌশলমাস শেষে যখন আপনি ইউরোপীয় মুদ্রায় সঞ্চয় করবেন, নিজের যোগ্যতায় ইউরোপের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করবেন, তখন বুঝবেন—কষ্টের সময়ে পাশে না থাকা ওই বিষাক্ত সমাজের চেয়ে জার্মানির এই শান্ত, কোলাহলমুক্ত স্বাধীন জীবন কতটা শ্রেষ্ঠ।
সমাজ আপনার পকেটে টাকা এনে দেবে না আর আপনার ভবিষ্যৎও গড়ে দেবে না। লোকদেখানো আড্ডার চেয়ে নিজের কর্মজীবন আর জীবনযাত্রা নিরাপদ করা অনেক বেশি বুদ্ধিমানের কাজ। যারা উপহাস করার, তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই পড়ে থাকুক, আপনি আপনার দক্ষতা আর জার্মানির প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিন।
এমআরএম
Advertisement