পরাজয় সবসময়ই দ্বন্দ্বের জন্ম দেয়। আর বুধবার সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর মনে হচ্ছিল, বেলজিয়ামের ড্রেসিংরুমের পুরোনো সব সমস্যাই আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। খেলোয়াড়দের পানি পান করার বিরতিটাই যেন উত্তেজনার বিস্ফোরণের মুহূর্ত হয়ে দাঁড়ায়। প্রকাশ্যেই বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন দলের অধিনায়ক ইউরি টিলেমান্স এবং ১০ নম্বর জার্সিধারী লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড।
Advertisement
খেলা থামার সঙ্গে সঙ্গেই ক্যামেরায় দেখা যায়, টিলেমান্স রাগান্বিত ভঙ্গিতে চিৎকার করছেন। দ্রুতই স্পষ্ট হয়ে যায়, তার সেই ক্ষোভের লক্ষ্য ট্রোসার্ড। পাল্টা জবাব দিতে পিছপা হননি ট্রোসার্ডও। দুজনের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হলে নিকোলাস রাসকিন ও রোমেলু লুকাকুকে এগিয়ে এসে তাদের আলাদা করতে হয়। এদিকে কোচ রুডি গার্সিয়া যখন দলকে নির্দেশনা দিচ্ছিলেন, তখনও দুই খেলোয়াড়কে একে অপরের থেকে অনেক দূরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
তবে ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয়ভাবে বদলে যায় পুরো চিত্র। লুকাকুর গোলে ব্যবধান কমে ২-১ হওয়ার পর ট্রোসার্ড নিখুঁত একটি ক্রস বাড়িয়ে দেন, আর সেটিকে গোলে পরিণত করে সমতা ফেরান টিলেমান্স। গোলের পর দুজন একে অপরকে আলিঙ্গন করেন। এরপর যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে লামিন কামারা টিলেমান্সকে ফাউল করলে বেলজিয়াম পেনাল্টি পায়। টিলেমান্স নিজেই সেই পেনাল্টি থেকে গোল করে বেলজিয়ামকে ৩-২ ব্যবধানে রোমাঞ্চকর জয় এনে দেন।
মার্সেলো বিয়েলসার অধীনে উরুগুয়ের পরিস্থিতির মতোই, এই ম্যাচের আগে ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমে বেলজিয়াম দল ও কোচ রুডি গার্সিয়ার মধ্যে উত্তেজনার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। কোচের কিছু অনুশীলন পদ্ধতি নিয়ে খেলোয়াড়দের অসন্তোষ ছিল বলে জানা যায়। গ্রুপ পর্বে মিশর ও ইরানের বিপক্ষে ড্র করার পর দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়েরা কোচকে ছাড়াই একটি বৈঠক করেন এবং নিজেদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা করেন। এখন এই নাটকীয় জয়ের পর অন্তত কয়েক দিনের জন্য হলেও কি দলে শান্তি ফিরে আসবে?
Advertisement
আরআর/আইএন