খেলাধুলা

পেরিসিচের গোলে পিছিয়েও রোনালদোর পেনাল্টিতে ১-১ সমতায় পর্তুগাল

বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে দ্বিতীয়ার্ধে জমে উঠেছে নাটক। প্রথমার্ধে গোলশূন্য থাকার পর বিরতির পরই ইভান পেরিসিচের গোলে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। তবে একাধিক পরিবর্তন এনে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় পর্তুগাল। শেষ পর্যন্ত ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পেনাল্টি গোলে সমতায় ফেরে ইউরোপের দুই পরাশক্তি।

Advertisement

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই সম্পূর্ণ বদলে যাওয়া এক ক্রোয়েশিয়াকে দেখা যায়। ৪৮ মিনিটে মাতেও কোভাচিচের নিচু শট অসাধারণভাবে পা বাড়িয়ে ঠেকিয়ে দেন পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা। পরের মিনিটেই কোভাচিচের কর্নার থেকে নিকোলা ভ্লাশিচ সুযোগ পেলেও তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

অবশেষে ৫৩ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় জ্লাতকো দালিচের দল। ডান প্রান্ত থেকে যোসিপ স্তানিশিচের নিখুঁত ক্রস বক্সে ফ্লিক করেন এক সতীর্থ। দূরের পোস্টে একেবারে ফাঁকায় থাকা ইভান পেরিসিচ বল নিয়ন্ত্রণ করে নিচু শটে জাল খুঁজে নেন। দিয়োগো কস্তার কোনো সুযোগই ছিল না। গোল করে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া।

গোলের পরও থেমে থাকেনি ক্রোয়েশিয়া। ৫৬ মিনিটে ভ্লাশিচের পাস থেকে বদলি স্ট্রাইকার ইগর মাতানোভিচ বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়ে যায়। ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয় তাদের।

Advertisement

এই ধাক্কা সামলে দ্রুত ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় পর্তুগাল। ৫৮ মিনিটে রাফায়েল লিয়াও দূরপাল্লার দুর্দান্ত বাঁকানো শটে লিভাকোভিচকে পরাস্ত করলেও বল ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।

অন্যদিকে পাল্টা আক্রমণে ৫৯ মিনিটে আবারও গোলের খুব কাছে পৌঁছে যায় ক্রোয়েশিয়া। মার্টিন বাতুরিনার পাস থেকে পেতার সুসিচ নিচু শট নিলে দারুণ সেভ করে পর্তুগালকে রক্ষা করেন দিয়োগো কস্তা।

একই মিনিটে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ থামাতে ভিটিনিয়াকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক লুকা মদরিচ।

৬১ মিনিটে দর্শকরা ভেবেছিলেন অবশেষে ইতিহাস গড়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। হোয়াও ক্যানসেলোর দুর্দান্ত পাস বক্সে নিয়ন্ত্রণ করে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। কিন্তু সহকারী রেফারির অফসাইডের পতাকা এবং পরে ভিএআর পর্যালোচনায়ও সেই সিদ্ধান্ত বহাল থাকায় হতাশ হতে হয় রোনালদোকে।

Advertisement

এরপরই বড় সিদ্ধান্ত নেন পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। ৬২ থেকে ৬৩ মিনিটের মধ্যে একসঙ্গে চারটি পরিবর্তন করেন তিনি। ভিতিনহার জায়গায় নামেন বার্নার্দো সিলভা, পেদ্রো নেতোর বদলে মাঠে আসেন ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও। ব্রুনো ফার্নান্দেসকে তুলে নেলসন সেমেদোকে নামিয়ে কৌশলগত পরিবর্তন আনেন মার্তিনেজ। একই সঙ্গে হোয়াও ক্যানসেলোর পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় গনসালো রামোসকে, ফলে রোনালদোর পাশে আরও একজন স্বাভাবিক স্ট্রাইকার যুক্ত হয়।

এই পরিবর্তনের পর আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে দেয় পর্তুগাল। ৬৪ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে রেনাতো ভেইগাকে বক্সের মধ্যে টেনে ধরেন নিকোলা ভ্লাশিচ। ভিএআর পর্যালোচনার পর পর্তুগালের পক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি।

৬৮ মিনিটে স্পট-কিক নিতে এসে কোনো ভুল করেননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ডানদিকে জোরালো শটে লিভাকোভিচকে পরাস্ত করে ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরান পর্তুগিজ অধিনায়ক। অফসাইডে বাতিল হওয়া গোলের হতাশা কাটিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে আবারও দলকে ম্যাচে ফেরান তিনি।

সমতার ঠিক আগে ক্রোয়েশিয়াও একটি পরিবর্তন আনে। মার্টিন বাতুরিনার জায়গায় মাঠে নামেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার মারিও পাশালিচ।

ম্যাচের বাকি সময় তাই আরও উত্তেজনাপূর্ণ হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। দুই দলই শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করতে মরিয়া, আর ম্যাচের গতি-প্রকৃতি বলছে—শেষ বাঁশি বাজার আগে নাটকীয়তার আরও অনেক কিছুই দেখা যেতে পারে।

আইএইচএস/