লাইফস্টাইল

শুধু বেশি খেলেই নয়, যেসব ভিটামিনের ঘাটতিতেও বাড়তে পারে ওজন

অনেকেই মনে করেন, অতিরিক্ত খাওয়া, জাঙ্ক ফুড বা শরীরচর্চা না করার কারণেই ওজন বাড়ে। যদিও এগুলো ওজন বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ, তবে সব সময় বিষয়টি এতটা সহজ নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে কিছু প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও পুষ্টি উপাদানের ঘাটতিও ওজন বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ এসব উপাদান শরীরের বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম), শক্তি উৎপাদন এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

Advertisement

যখন শরীরে এগুলোর অভাব দেখা দেয়, তখন ক্যালোরি পোড়ানোর গতি কমে যেতে পারে, ক্লান্তি বাড়তে পারে এবং ধীরে ধীরে ওজন বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি

ওজন নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনগুলোর একটি হলো ভিটামিন ডি। এটি শুধু হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, শরীরের বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে এবং পেশির কার্যকারিতা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা কম থাকলে ক্যালরি পোড়ানোর হার কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে ক্লান্তি ও অবসাদ বাড়ায়, ফলে অনেকেই ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম করতে অনীহা অনুভব করেন। এর ফলে ধীরে ধীরে শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমতে শুরু করতে পারে।

Advertisement

ভিটামিন ডি-এর ভালো উৎস হলো ডিমের কুসুম, চর্বিযুক্ত মাছ, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার। পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট সকালের রোদে থাকলেও শরীর প্রাকৃতিকভাবে এই ভিটামিন তৈরি করতে পারে।

ভিটামিন বি-গ্রুপের গুরুত্ব

ভিটামিন বি-গ্রুপ, বিশেষ করে ভিটামিন বি-১২, বি-৬ এবং ফোলেট শরীরে খাবারকে শক্তিতে রূপান্তর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ভিটামিনগুলোর ঘাটতি হলে শরীরে দুর্বলতা, ক্লান্তি ও কর্মক্ষমতা কমে যায়।

ফলে অনেকেই সারাদিন অলস অনুভব করেন এবং শারীরিকভাবে কম সক্রিয় থাকেন। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে ক্যালরি খরচ কমে গিয়ে ওজন বাড়তে পারে।

ভিটামিন বি-১২ পাওয়া যায় মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারে। আর অন্যান্য বি ভিটামিনের জন্য গোটা শস্য, ডাল, সবুজ শাকসবজি ও বাদাম নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।

Advertisement

অন্যান্য পুষ্টির ঘাটতিও গুরুত্বপূর্ণ

শুধু ভিটামিনের অভাব নয়, শরীরে প্রোটিন, খাদ্যআঁশ (ফাইবার), ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, জিঙ্ক, আয়রন এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ঘাটতিও ওজন নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। অন্যদিকে খাদ্যআঁশ হজম ভালো রাখে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড প্রদাহ কমাতে এবং শরীরের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়া বজায় রাখতে সাহায্য করে।

সাপ্লিমেন্ট নয়

অনেকেই ওজন বাড়তে দেখলেই নিজের ইচ্ছামতো ভিটামিন ট্যাবলেট বা সাপ্লিমেন্ট খাওয়া শুরু করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মোটেও নিরাপদ নয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভিটামিন গ্রহণ করলে শরীরে উল্টা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

যদি দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তি, দুর্বলতা, অস্বাভাবিকভাবে ওজন বৃদ্ধি বা অন্য কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা করে শরীরে কোনো ভিটামিন বা খনিজের ঘাটতি আছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

সুস্থভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণের উপায়

ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো একটি খাবার বা ভিটামিনের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম, পর্যাপ্ত পানি পান এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ওজন বজায় রাখা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকলে বিপাকক্রিয়াও স্বাভাবিক থাকে। তাই ওজন কমাতে না খেয়ে থাকার পরিবর্তে পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে কার্যকর এবং স্বাস্থ্যকর উপায়। 

সূত্র: হেলথলাইন, মায়ো ক্লিনিক, এনডিটিভি

এসএকেওয়াই