পাবনার ঈশ্বরদীতে ডিমের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণসহ ৫ দফা দাবি নিয়ে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করেছেন অর্ধশতাধিক প্রান্তিক খামারি। এসময় তারা সড়কে ডিম ভেঙে প্রতিবাদ জানান।
Advertisement
রোববার (৫ জুলাই) দুপুর ১২ টার দিকে ঈশ্বরদী পোলট্রি খামারি অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে উপজেলার মুলাডুলি বাজারের ঈশ্বরদী-নাটোর মহাসড়কে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
এসময় সড়ক অবরোধ করে তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সরকারের উদ্দেশ্যে তাদের দাবি জানিয়েছেন। এতে মহাসড়কে প্রায় ২০ মিনিট যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া খামারিদের হাতে ছিল নানা দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার। এতে ‘ডিমের সঠিক দাম চাই, ন্যায্য অধিকার চাই’, খাদ্যের দাম কমাও খামারিদের বাঁচাও, আমদানি নয় দেশীয় খামার বাঁচাও এমন বিভিন্ন স্লোগান লিখা ছিল।
তাদের দাবিগুলোর মধ্যে ছিল- ডিমের ন্যায্য মূল্য নির্ধারন, স্বল্প সুদে করপোরেট কোম্পানি নয় প্রান্তিক খামারিদের ঋণ সুবিধা দিতে হবে, পোলট্রি খাদ্যের দাম কমাতে হবে, ভেটেরিনারি সংক্রান্ত মেডিসিনে শুল্ক কমিয়ে দাম কমাতে হবে, করপোরেট কোম্পানি নামে যে সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে তা ভেঙে প্রান্তিক খামারিদের গুরুত্ব দিতে হবে।
Advertisement
এ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মুলাডুলি বাজারের বিপ্লব ভেটেরিনারির স্বত্বাধিকারী মো. বিপ্লব হোসেন বলেন, শুধুমাত্র করপোরেট কোম্পানি নামে বড় সিন্ডিকেটে প্রান্তিক খামার ও খামারিরা আজ ধ্বংসের পথে। খামারে একটি ডিম উৎপাদন করতে খরচ হয় ৯ টাকার বেশি যা বাজারে বিক্রি করতে হবে ১০ টাকা বা ১০ টাকা ৫০ পয়সা। সেখানে সেই খামারি ডিম প্রতি দাম পাচ্ছে ৭ টাকা ৮০ পয়সা করে। প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে খাদ্যের দাম কামানোর কথা বলা হলেও তা এখনও কার্যকর করা হয়নি। এভাবে চলতে থাকলে প্রান্তিক খামারিরা বাচঁবে কিভাবে।
পোলট্রি খামারি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও স্থানীয় খামারি মো. ইমদাদুল হক মিলন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পোলট্রি খাদ্য ও মেডিসিনের দাম না কমিয়ে বার বার ডিমের দাম কমিয়ে আমাদের মত ক্ষুদ্র খামারিদের শেষ করে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন এনজিও-ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে খামার করে বিপাকে পড়েছে খামারিরা। তাই বাধ্য হয়ে সড়কে এসে ডিম ভেঙে সরকারের দৃষ্টিগোচর করছি। ক্ষুদ্র খামারিদের সঙ্গে এমন বৈষম্য ও অবিচার বন্ধ করতে হবে।
খামারি মফিজউদ্দিন মানিক, আয়েন খাঁ ও মাসুদ গাজীসহ কয়েকজন খামারে জানান, আজকের এ প্রতিবাদ শুধু ডিমের দাম নিয়ে নয়। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পোলট্রি খাদ্য বস্তাপ্রতি ছিল ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা তা কয়েক বছরের ব্যবধানে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকার ঘরে। সেসময় সরকার ভোক্তা পর্যায়ে ডিমের দাম নির্ধারণ করে দিলো ১০ টাকা ৫৮ পয়সা যা এখন খাদ্য ও মেডিসিনের দামের সঙ্গে কোনো সামঞ্জস্যতা নেই। খাদ্যের দাম উচ্চমুল্যে বৃদ্ধি কিন্তু ডিমের দাম কমাতে কমাতে এমন পর্যায়ে এনেছে যা খামারিদের একেবারে শেষ করে দেওয়ার মতো। শুধুমাত্র সরকারের দৃষ্টিতে আনার জন্য আজ বাধ্য হয়ে সড়ক অবরোধ করে ডিম ভেঙে প্রতিবাদ জানিয়ে গেলাম।
ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা মোছা. আকলিমা খাতুন জানান, তাদের এ কর্মসূচির বিষয়ে কিছুই জানি না। তারা তাদের দাবি নিয়ে শুরুতেই উচিত ছিল ইউএনওসহ আমাদের সঙ্গে আলাপ করা। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে খামারিদের সঙ্গে কথা বলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
Advertisement
শেখ মহসীন/এনএইচআর/এএসএম