ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই উৎসবের আমেজ। রাত জেগে টিভির সামনে বসে প্রিয় দলের খেলা দেখা, গোল হলেই উল্লাস আর হারলে মন খারাপ হওয়া বিশ্বকাপের আবেগে মেতে ওঠেন ছোট-বড় সবাই। পরিবারের শিশুরাও এই আনন্দের বাইরে থাকে না। তারা বাবা-মায়ের সঙ্গে বসে খেলা দেখে, প্রিয় খেলোয়াড়কে অনুসরণ করে এবং বিভিন্ন দেশের জার্সি ও পতাকা নিয়ে আগ্রহ দেখায়।
Advertisement
শিশুরা যখন আগ্রহ নিয়ে খেলা দেখে, তখন সেটিকে শুধু বিনোদন হিসেবে না দেখে শেখার সুযোগ হিসেবেও কাজে লাগানো যায়। বিশ্বকাপের নানা মুহূর্ত থেকেই তারা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনেক শিক্ষা পেতে পারে।
বিশ্বের নানা দেশ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগবিশ্বকাপে অংশ নেয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দল। প্রতিটি দেশের রয়েছে আলাদা ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও জাতীয় পরিচয়। খেলা দেখার সময় সন্তানকে দেশগুলোর অবস্থান, জাতীয় পতাকা, রাজধানী কিংবা সংস্কৃতি সম্পর্কে সহজভাবে জানাতে পারেন। এভাবে খেলার প্রতি আগ্রহ থেকেই শিশুর সাধারণ জ্ঞান বাড়বে এবং পৃথিবী সম্পর্কে জানার কৌতূহলও তৈরি হবে।
জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার শিক্ষাখেলাধুলার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো-সব সময় জয়ী হওয়া সম্ভব নয়। একটি দল জিতবে, অন্য দল হারবে এটাই স্বাভাবিক। সন্তান যদি তার প্রিয় দল হেরে যাওয়ায় মন খারাপ করে, তাহলে তাকে বোঝান যে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সাফল্য ও ব্যর্থতা পাশাপাশি থাকে। বিজয়ীদের অভিনন্দন জানানো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার নতুন করে চেষ্টা করাও সমান জরুরি। এই মানসিকতা ভবিষ্যতে পড়াশোনা, খেলাধুলা কিংবা কর্মজীবনের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।
Advertisement
ফুটবল কখনোই একার খেলা নয়। একজন তারকা খেলোয়াড় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন, কিন্তু পুরো দলের সমন্বয় ছাড়া জয় সম্ভব নয়।
খেলা দেখার সময় সন্তানকে বোঝান, পরিবার, স্কুল কিংবা ভবিষ্যতের কর্মজীবনে একসঙ্গে কাজ করার দক্ষতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অন্যকে সহযোগিতা করা, সবার মতামতকে সম্মান করা এবং একসঙ্গে লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করাই প্রকৃত টিমওয়ার্ক।
আরও পড়ুন রাত জেগে বিশ্বকাপ দেখার সময় চোখের ক্ষতি এড়াবেন যেভাবে সফল মানুষের পেছনের পরিশ্রমের গল্প বলুনবিশ্বসেরা ফুটবলারদের জীবন সব সময় সহজ ছিল না। অনেকেই দারিদ্র্য, প্রতিকূলতা কিংবা নানা বাধা পেরিয়ে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন।
খেলা দেখার সময় সন্তানকে এসব অনুপ্রেরণামূলক গল্প শোনান। এতে সে বুঝতে পারবে, প্রতিভার পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম, নিয়মিত অনুশীলন এবং অধ্যবসায়ই সাফল্যের আসল চাবিকাঠি।
Advertisement
একটি ম্যাচের শেষ কয়েক মিনিটে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায়। খেলোয়াড়দের তখন চাপ সামলে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এ থেকেই সন্তানকে শেখানো যায়, জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতেও মাথা ঠান্ডা রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। পরীক্ষার ফল, প্রতিযোগিতা কিংবা অন্য কোনো চ্যালেঞ্জে আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরে এগিয়ে যাওয়াই সফলতার পথ।
খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোবর্তমান সময়ে অনেক শিশুই মোবাইল, ট্যাব কিংবা ভিডিও গেমে বেশি সময় কাটায়। খোলা মাঠে দৌড়ঝাঁপ বা দলগত খেলাধুলার সুযোগও আগের তুলনায় কমে গেছে।
বিশ্বকাপের এই উৎসবকে কাজে লাগিয়ে সন্তানকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করুন। শুধু টিভিতে খেলা দেখাই নয়, সুযোগ পেলেই তাকে মাঠে নিয়ে যান, বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে উৎসাহ দিন এবং শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করুন।
আরও পড়ুন যেভাবে নিজেকে ‘গোলমেশিন’ বানিয়েছেন আর্লিং হালান্ডবিশ্বকাপের আনন্দ কয়েক সপ্তাহের হলেও, এই সময়ে সন্তানকে দেওয়া ইতিবাচক শিক্ষা তার সারা জীবনের সম্পদ হয়ে থাকতে পারে। তাই প্রিয় দলের খেলা দেখার পাশাপাশি সন্তানকে শেখান জয়-পরাজয় মেনে নেওয়া, দলগতভাবে কাজ করা, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, পরিশ্রমের মূল্য বোঝা এবং কখনো হাল না ছাড়ার মানসিকতা। এই ছোট ছোট শিক্ষাই একদিন তাকে আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
সূত্র: লেটস গো উইথ দ্য চিলড্রেন, ব্যালেন্স ইন বেটার, মিডিয়াম
এসএকেওয়াই