আন্তর্জাতিক

১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, সন্দেহভাজনকে পিটিয়ে মারল জনতা

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুরে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে মেরেছে উত্তেজিত জনতা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিআইটি) গঠন করেছে এবং এক বিজেপি কর্মীকে আটক করেছে।

Advertisement

ঘটনাটি ঘটেছে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায়। পুলিশ জানায়, গত শনিবার বিকেলে এক বান্ধবীর জন্মদিনের উপহার কিনতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ওই শিশু। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি।

আরও পড়ুন আন্দোলনে উত্তাল ভারতে এবার বাসের মধ্যে দলবদ্ধ ধর্ষণ

পরিবারের অভিযোগ, চারজন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। সারারাত খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান মেলেনি। এ বিষয়ে পুলিশকে জানানো হলেও তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছে পরিবারটি।

বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

রোববার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা এক সন্দেহভাজনকে ধরে ফেলে। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ওই ব্যক্তি শিশুটির মরদেহের অবস্থান জানিয়ে দেয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সূর্যপুর হাট এলাকার একটি পুকুরের পাশ থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

Advertisement

মরদেহ উদ্ধারের পরপরই উত্তেজিত পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা ওই অভিযুক্তের ওপর চড়াও হয়। গণপিটুনিতে সে গুরুতর আহত হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

আরও পড়ুন ভারত / সহপাঠীদের কাছে বারবার যৌন হেনস্তার শিকার ছাত্রী, তদন্তে পুলিশ

প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজিপি কঙ্করপ্রসাদ বারুই জানান, শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ক্ষুব্ধ জনতা ওই ব্যক্তিকে পিটিয়ে মেরেছে।

তীব্র বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ

মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা বারুইপুর-জয়নগর সড়ক অবরোধ করেন। তারা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেন। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

আইজিপি কঙ্করপ্রসাদ বারুই হ্যান্ডমাইক দিয়ে আন্দোলনকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি আশ্বাস দেন, এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করা হবে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

Advertisement

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশ্বাসের পর বিক্ষোভকারীরা রাস্তা থেকে অবরোধ তুলে নেয় এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাতে দেয়।

এ ঘটনায় শান্তনু মণ্ডল নামে এক স্থানীয় বিজেপি কর্মীকে আটক করাসহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডেকেএএ/