গয়না শুধু সাজের অনুষঙ্গ, এই ধারণা এখন অনেকটাই বদলে গেছে। ফ্যাশনের পাশাপাশি এখন গয়নায় যুক্ত হচ্ছে মানসিক সুস্থতার ভাবনাও। সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি জুয়েলারি’, যা শুধু স্টাইল স্টেটমেন্ট হিসেবে কাজ করছে না, বরং উদ্বেগ বা অস্থিরতার মুহূর্তে সাময়িক স্বস্তি পাওয়ার একটি উপায় হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
Advertisement
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, হাত বা আঙুলের ছোট ছোট পুনরাবৃত্তিমূলক নড়াচড়া অনেকের ক্ষেত্রে মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দিতে পারে। সেই ধারণা থেকেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে স্পিনার রিং, ব্রিদিং পেন্ডেন্ট এবং অ্যারোমাথেরাপি ব্রেসলেটের মতো গয়না।
কী এই অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি জুয়েলারি?অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি জুয়েলারি বলতে এমন কিছু গয়নাকে বোঝানো হয়, যেগুলো শুধু অলংকার নয়, ব্যবহারকারীর হাত বা শ্বাস-প্রশ্বাসকে একটি নির্দিষ্ট ছন্দে আনতে সহায়তা করে। এগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো মানসিক চাপের মুহূর্তে মনকে অন্যদিকে ব্যস্ত রাখা এবং কিছুটা স্বস্তি অনুভব করতে সাহায্য করা। এই গয়নাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়েছে স্পিনার রিং, স্পিনিং ব্যান্ড, ব্রিদিং পেন্ডেন্ট এবং অ্যারোমাথেরাপি ব্রেসলেট।
অনেকে মনোযোগ ধরে রাখতে ব্যবহার করছেন এই গয়না
Advertisement
স্পিনার রিং এমন একটি আংটি, যার বাইরের অংশটি সহজেই ঘুরানো যায়। উদ্বেগ, অস্থিরতা কিংবা অতিরিক্ত চাপ অনুভব করলে অনেকেই অজান্তেই কলম ঘোরানো, আঙুল টোকা দেওয়া বা নখ কামড়ানোর মতো অভ্যাস করেন। স্পিনার রিং সেই অভ্যাসের একটি নিরাপদ বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
আঙুল দিয়ে রিংয়ের বাইরের অংশ ধীরে ধীরে ঘোরালে মন কিছুটা অন্যদিকে সরে যায়। অনেক ব্যবহারকারী জানান, এতে তারা সাময়িকভাবে শান্ত অনুভব করেন এবং মনোযোগও কিছুটা বাড়ে।
নিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলনে সহায়ক ব্রিদিং পেন্ডেন্ট
ব্রিদিং পেন্ডেন্ট যেভাবে কাজ করে?ব্রিদিং পেন্ডেন্ট দেখতে ছোট ধাতব নলের মতো। এটি ব্যবহারকারীদের ধীরে ও নিয়ন্ত্রিতভাবে শ্বাস নেওয়া এবং ছাড়তে উৎসাহিত করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ধীরগতির শ্বাস-প্রশ্বাসকে মানসিক চাপ কমানোর একটি কার্যকর অনুশীলন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ব্রিদিং পেন্ডেন্ট সেই শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলনকে আরও সহজ করে তোলে। ফলে অনেকেই এটিকে দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করছেন।
Advertisement
অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি জুয়েলারির আরেকটি জনপ্রিয় সংযোজন হলো অ্যারোমাথেরাপি ব্রেসলেট। সাধারণত লাভা স্টোন, ছিদ্রযুক্ত পাথর বা বিশেষ উপাদানের ওপর এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করা হয়। অনেকে মনে করেন, ল্যাভেন্ডার, পেপারমিন্ট বা অন্য সুগন্ধি তেলের সুগন্ধ মানসিক স্বস্তি দিতে সাহায্য করে। তাই ফ্যাশনের পাশাপাশি এই ধরনের ব্রেসলেট এখন অনেক তরুণ-তরুণীর পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। তবে কেনার আগে অবশ্যই পণ্যের মান ও উপাদান যাচাই করে নেওয়া উচিত।
উদ্বেগের মুহূর্তে অনেকেই খুঁজে নেন ছোট্ট মানসিক স্বস্তি
ইতিহাসও বেশ পুরোনোএ ধরনের নড়াচড়া করা গয়নাকে কাইনেটিক জুয়েলারি বলা হয়। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে জার্মান স্বর্ণশিল্পী ও অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ফ্রিডরিখ বেকার ঘূর্ণনশীল অংশযুক্ত অভিনব গয়না তৈরি করেছিলেন। তখন এসব গয়না মূলত শিল্পনৈপুণ্যের উদাহরণ হিসেবে পরিচিত ছিল। সময়ের সঙ্গে সেই নকশাই আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন ভাবনায় ফিরে এসেছে ‘ওয়েলনেস জুয়েলারি’ হিসেবে।
কেন তরুণদের মধ্যে এত জনপ্রিয়?বর্তমান প্রজন্ম শুধু সুন্দর দেখতে গয়নাই চায় না, বরং এমন কিছু ব্যবহার করতে আগ্রহী যা স্টাইলের পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনেও কাজে আসে। স্পিনার রিং কিংবা ব্রিদিং পেন্ডেন্ট সহজেই অফিস, বিশ্ববিদ্যালয়, ভ্রমণ বা সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যবহার করা যায়। এগুলো একই সঙ্গে ফ্যাশন অ্যাকসেসরি এবং ব্যক্তিগত স্বস্তির একটি ছোট উপকরণ হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
সত্যিই কি উদ্বেগ কমায়?এ বিষয়ে এখনো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণা নেই। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে স্পিনার রিং ঘোরানো বা ব্রিদিং পেন্ডেন্ট ব্যবহার করে ধীরগতির শ্বাস-প্রশ্বাস অনুশীলন করলে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে বলেন, এগুলো কোনোভাবেই উদ্বেগজনিত রোগ, প্যানিক ডিসঅর্ডার বা অন্য মানসিক সমস্যার চিকিৎসার বিকল্প নয়।
আরও পড়ুন একটি টাই-ই বদলে দিল পুরো লুক, লর্ডসে ভাইরাল সাইফ আলি খানযদি দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ, অস্থিরতা, আতঙ্ক, ঘুমের সমস্যা বা মানসিক চাপের কারণে দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়, তাহলে অবশ্যই মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন প্রতিবাদে ফ্যাশনের ছোঁয়া, ভারতে নতুন ট্রেন্ড ‘জিআরডব্লিউএম’সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
এসএকেওয়াই