দেশজুড়ে

রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে শিশু অপহরণ, ৪ দিন পর মুক্তি

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অপহৃত রহমত আলী নামে এক শিশুকে চার দিন আটকে রেখে, নির্যাতনের পর মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দিয়েছেন অপহরণকারীরা।

Advertisement

বুধবার (২২ জুলাই) ক্যাম্প থেকে তাকে অপহরণ করা হয়।

অপহৃত রহমত আলী উখিয়ার কুতুপালং ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ই-ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ জুনায়েদের ছেলে।

ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা রোহিঙ্গা আজমত উল্লাহ জানান, উখিয়ার ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ই-ব্লকের বাসিন্দা জুনায়েদের ছেলে রহমত আলীকে অজ্ঞাত পরিচয়ের অপহরণকারীরা অপহরণ করেছিল।

Advertisement

তিনি বলেন, ‘অপহরণের পর শিশুটিকে নির্যাতন করে সেই ভিডিও পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠায় এবং তার মুক্তির বিনিময়ে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে। পরে শুনেছি, মুক্তিপণ নেওয়ার পর অপহরণকারীরা তাকে ছেড়ে দিয়েছেন। তবে কী পরিমাণ মুক্তিপণ দেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

আরেক রোহিঙ্গা আলী আহমদ বলেন, ‘আমরা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এ ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছি। এখানে প্রায়ই অপহরণের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে শিশু অপহরণের ঘটনা বেড়েছে। মুক্তিপণ না দিলে অপহৃতদের সহজে ছাড়া মেলে না। অথচ আশ্রয় নেওয়া অধিকাংশ রোহিঙ্গার পক্ষে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দেওয়া সম্ভব নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে মুক্তিপণ না পেলে অপহরণকারীরা শিশুদের হত্যা করে। আবার মুক্তিপণ পাওয়ার পরও হত্যার ঘটনা ঘটে। এর উদাহরণ হিসেবে সম্প্রতি কুতুপালং ক্যাম্পের এলহাম নামে এক শিশুকে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায় করেও হত্যা করা হয়েছিল। এসব ঘটনায় ক্যাম্পজুড়ে অপহরণ-আতঙ্ক এবং উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়ে গেছে।’

অপরদিকে, অপহরণকারীদের পাঠানো একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটির হাত-পা বেঁধে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল। ভিডিওতে অপহৃত রহমত আলী কাঁদতে কাঁদতে বলছিল, ‘ও মা, আমাকে মেরে ফেলতেছে। আমাকে বাঁচান, টাকা দেন।’

Advertisement

জানা গেছে, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে অপহরণের পর ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের এমন ভিডিও ধারণ করে অপহরণকারীরা। পরে এগুলো পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠায়।

উখিয়ার কুতুপালং ১১ নম্বর ক্যাম্পের ইনচার্জ (উপসচিব) মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম জানান, ক্যাম্পের ই ব্লক থেকে অপহৃত শিশু রহমত আলী গত রোববার অপহরণকারীদের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছে।

তিনি আরও জানান, শিশুটির পরিবার এ বিষয়ে সমাধান করেছে। তবে বিস্তারিত তথ্য তার জানা নেই। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বরত ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সিরাজ আমীন বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘটিত যেকোনো অপরাধের ঘটনা নজরে এলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘অপহরণের ঘটনায় ভুক্তভোগী বা তাদের স্বজনরা এপিবিএনের কাছে অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

রোহিঙ্গা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অন্তত ২৫ জন রোহিঙ্গা শিশু অপহরণের শিকার হয়েছে। যা ক্যাম্পে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

জাহাঙ্গীর আলম/কেজে/জেআইএম