অর্থনীতি

মুনাফা বেড়েছে ৭ বিমা কোম্পানির, কমেছে একটির

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা খাতের আট কোম্পানি ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে সাতটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়েছে। তবে একটি কোম্পানির ইপিএস আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে।

Advertisement

কোম্পানিগুলোর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (২৯ জুলাই) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।

পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি ৪১ পয়সা আয় করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪৫ পয়সা। তবে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়ে ৮৪ পয়সায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭৮ পয়সা। 

এসময় পরিচালন নগদ প্রবাহ বেড়ে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ১ পয়সা হয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৭০ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৬ শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য বেড়ে ১৫ টাকা ৫০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে ছিল ১৪ টাকা ২৯ পয়সা।

Advertisement

স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স

এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স শেয়ারপ্রতি ৭২ পয়সা মুনাফা করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭০ পয়সা। বছরের প্রথম ছয় মাসে ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৩৭ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ১ টাকা ৩৫ পয়সা। 

কোম্পানিটির পরিচালন নগদ প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৯ পয়সায় পৌঁছেছে, যা আগের বছর ছিল মাত্র ২৮ পয়সা। ৩০ জুন শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৩ টাকা ৯৮ পয়সা। কমিশন ব্যয় ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় কমে যাওয়ায় পরিচালন নগদ প্রবাহ বেড়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।

আরও পড়ুন ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের মুনাফায় ধস, চেয়ারম্যান নিয়োগ  ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স

দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি ৪৩ পয়সা আয় করেছে ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৮ পয়সা। ছয় মাস শেষে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়ে ৭০ পয়সা হয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৫৩ পয়সা। একই সময়ে পরিচালন নগদ প্রবাহ ৩১ পয়সা থেকে বেড়ে ১ টাকা ৪১ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। 

কর-পরবর্তী নিট মুনাফা বৃদ্ধি, পুনর্বিমা প্রিমিয়াম ব্যয় কমে যাওয়া এবং রিজার্ভ বৃদ্ধি পাওয়ায় আর্থিক সূচকে এ উন্নতি এসেছে বলে কোম্পানিটি জানিয়েছে।

Advertisement

কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স 

কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি ৭৬ পয়সা আয় করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪৯ পয়সা। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইপিএস বেড়ে ১ টাকা ৪৪ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। 

এদিকে পরিচালন নগদ প্রবাহ ১৪ পয়সা থেকে বেড়ে ৮৩ পয়সা হয়েছে। ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা ৯৭ পয়সা, যা এক বছর আগে ছিল ২৩ টাকা ৮৬ পয়সা।

নিটল ইন্স্যুরেন্স

দ্বিতীয় প্রান্তিকে পুনর্নির্ধারিত আগের বছরের ৩১ পয়সার বিপরীতে শেয়ারপ্রতি ৪৮ পয়সা আয় করেছে নিটল ইন্স্যুরেন্স। ছয় মাস শেষে ইপিএস বেড়ে ৭৯ পয়সা হয়েছে, যা আগের বছর পুনর্নির্ধারিত হিসাবে ছিল ৬৮ পয়সা। পরিচালন নগদ প্রবাহও ১৪ পয়সা থেকে বেড়ে ১৮ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য বেড়ে ৩২ টাকা ৮ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স

এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ১৮ পয়সা আয় করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৭ পয়সা। ছয় মাস শেষে ইপিএস বেড়ে ১ টাকা ৮১ পয়সা হয়েছে। পরিচালন নগদ প্রবাহ ৭৫ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ১৭ পয়সায় পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন বার্জারের দ্বিগুণ মুনাফা, সহযোগী প্রতিষ্ঠানে ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ

কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্যও বেড়ে ৫২ টাকা ৫৭ পয়সা হয়েছে। আন্ডাররাইটিং আয় বৃদ্ধি এবং কমিশন ও ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমে যাওয়ায় মুনাফা ও পরিচালন নগদ প্রবাহ বেড়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স

সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় প্রায় দ্বিগুণের বেশি বেড়ে ১ টাকা ৬০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭৩ পয়সা। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৭০ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ১ টাকা ৬৩ পয়সা। 

তবে পরিচালন নগদ প্রবাহ সামান্য কমে ১ টাকা ৯৭ পয়সা হয়েছে, যা আগের বছর ছিল ১ টাকা ৯৮ পয়সা। কোম্পানিটির মতে, বিনিয়োগ ও অন্যান্য আয় বাড়ায় মুনাফা বেড়েছে। অন্যদিকে প্রিমিয়াম সংগ্রহ কমে যাওয়ায় পরিচালন নগদ প্রবাহ সামান্য হ্রাস পেয়েছে। সরকারি ট্রেজারি বন্ড ও স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য ২৬ টাকা ৩০ পয়সায় উন্নীত হয়েছে।

প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স

দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি ৬৩ পয়সা আয় করেছে প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪০ পয়সা। ছয় মাস শেষে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়ে ১ টাকা ১২ পয়সা হয়েছে। তবে পরিচালন নগদ প্রবাহ ইতিবাচক অবস্থান থেকে ঋণাত্মক হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটির এনওসিএফপিএস ঋণাত্মক ৪০ পয়সা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে তা ইতিবাচক ২৪ পয়সা ছিল। ৩০ জুন ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য বেড়ে ২৩ টাকা ৫৬ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

এমএএস/একিউএফ