স্থানীয় প্রতিনিধিদের গালিগালাজের পরও মানুষজন যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন।
Advertisement
মঙ্গলবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খাঁন বলেন, এনসিপির নেতারা যে এলাকায় জুলাই পদযাত্রা করতে যাচ্ছে, ঐ এলাকার বিএনপির এমপি ও নেতাদের গালিগালাজ করছে। তাদের মুখে আওয়ামী লীগের বিচারের দাবি শোনা যাচ্ছে না বরং কোথাও কোথাও তাদের প্রোগ্রামে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান উচ্চারিত হচ্ছে! এছাড়া এনসিপির নেতাদের বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ভিক্টিম কার্ড খেলার জন্য ময়দান তৈরি করছে। আপনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে খামাখা গালিগালাজ করবেন, আবার বলবেন শব্দের (গালির) বিপরীতে শব্দের রাজনীতি করুন।’
প্রধানমন্ত্রীর এই সহকারী বলেন, গালিগালাজ করার পরে ঐ এলাকার কতজনের বিক্ষুব্ধতাকে প্রশমিত করবেন? যেখানে শেখ হাসিনার এক শব্দের কারণে প্রতিরোধের মুখোমুখি হয়ে পতন হয়েছে, সেখানে আপনারা শব্দের রাজনীতি করতে চান?
Advertisement
রাশেদ খাঁন বলেন, ভাগ্য ভাল যে, এখনো সবাই ধৈর্য্য ধারণ করে আছে। প্রবাদ আছে, মুখের কারণে দুধভাত আর মুখের কারণে ঝাঁটা বাড়ুন! স্থানীয় প্রতিনিধিদের গালিগালাজের পরেও যে অত্র এলাকার মানুষ ঝাঁটা বাড়ুন দিয়ে ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তো আপনাদের সৌভাগ্যের বিষয়!’
হবিগঞ্জে শহরের থানার মোড় এলাকায় মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় এনসিপির সমাবেশ ঘিরে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রদলের সংঘর্ষ হয়েছে। একপর্যায়ে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমকে সোনালী ব্যাংকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এসময় দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন হবিগঞ্জে এনসিপি-ছাত্রদল সংঘর্ষ, পাটওয়ারী-সারজিস ব্যাংকে অবরুদ্ধ হবিগঞ্জে ছাত্রদলের হামলা / কারও হাত ভেঙে গেছে, কারও মাথা ফেটে গেছে: সারজিস আলমএতে দলের মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম ও জেলা সদস্য সচিব মাহবুবুর রহমান মুবিনসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। এসময় তাদের বহনকারী গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
হামলার পর সারজিস আলম বলেন, ‘আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। কারও হাত ভেঙে গেছে, কারও মাথা ফেটে গেছে। জেলা সদস্য সচিবকে রড দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। একজনের চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় হাসপাতালের সামনেই আমাদের ওপর হামলা করা হয়।’
Advertisement
তবে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ হবিগঞ্জ শহরে কেউ যদি এসে অশালীন বক্তব্য দিয়ে শহরকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে। অন্য কেউ এর দায়ভার নেবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ অপ্রীতিকর একটি ঘটনার খবর শুনেছি। এর সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের কোনো সম্পর্ক নেই। শুনেছি কোনো অশালীন বক্তব্যকে ঘিরে বিক্ষুব্ধ মানুষজন ধাওয়া দিয়েছে।’
এমএমএআর