অর্থনীতি

বাংলা কিউআরের ক্ষুদ্র মার্চেন্টদের জন্য ১০০ কোটি টাকার তহবিল

ডিজিটাল লেনদেন আরও বিস্তৃত করতে বাংলা কিউআর ব্যবহারকারী ক্ষুদ্র মার্চেন্টদের জন্য ১০০ কোটি টাকার ভর্তুকি তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিল থেকে ছোট ব্যবসায়ীদের মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) বা সার্ভিস চার্জে সহায়তা দেওয়া হবে।

Advertisement

বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ তহবিল গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে গত ১ জুলাই থেকে অ্যাপভিত্তিক আন্তঃপরিশোধ ব্যবস্থায় বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করা হয়। একই সঙ্গে মার্চেন্ট পর্যায়ে লেনদেনে ন্যূনতম ১ শতাংশ সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নগদবিহীন লেনদেনকে উৎসাহিত করার উদ্যোগের মধ্যেই এ চার্জ আরোপ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমাতে ভর্তুকি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আরও পড়ুন বাংলা কিউআর লেনদেনে ফি ১%, কাটা হবে কার কাছ থেকে?

তবে কোন ধরনের মার্চেন্ট এ সুবিধা পাবেন এবং কীভাবে ভর্তুকি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলা কিউআরের সাম্প্রতিক লেনদেন বিশ্লেষণ করে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করছে। নীতিমালা জারির পর ভর্তুকির আওতা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে।

Advertisement

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য ফুটপাতের বিক্রেতা, ভ্যানচালিত ব্যবসায়ীসহ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার আওতায় আনা। তবে বাংলা কিউআর ব্যবহার করে কেবল মার্চেন্ট পেমেন্টই করা যাবে। কোনো মার্চেন্ট এ ব্যবস্থাকে ক্যাশ আউটের কাজে ব্যবহার করলে তার বাংলা কিউআর সুবিধা বাতিল করা হবে।

পর্ষদ সভায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক-সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও হয়েছে। গ্রাহকদের নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা উত্তোলনের সুযোগ অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়া একীভূত পাঁচ ব্যাংক থেকে ধাপে ধাপে প্রশাসক প্রত্যাহারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে এক্সিম ব্যাংক থেকে প্রশাসক প্রত্যাহার করা হবে। পরে পর্যায়ক্রমে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক থেকেও প্রশাসকদের প্রত্যাহার করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৩ সালে বাংলা কিউআর চালু করে। দেশব্যাপী একটি অভিন্ন, নিরাপদ ও আন্তঃপরিচালনযোগ্য (ইন্টারঅপারেবল) ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে সব ব্যাংকের অ্যাপভিত্তিক লেনদেনে এটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বর্তমানে ৩৭টি ব্যাংক এ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন দুই দিনে বাংলা কিউআরে ২২ কোটি টাকার লেনদেন

ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলো সারাদেশে প্রায় ২৩ লাখ বাংলা কিউআর স্থাপন করেছে এবং এর মাধ্যমে লেনদেন দ্রুত বাড়ছে। নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলা কিউআর বাস্তবায়ন না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক কাঠামো বিবেচনায় নিয়েই ন্যূনতম ১ শতাংশ সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে। এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান আয়ের উৎস বিভিন্ন সেবা ও ক্যাশ আউট চার্জ। অন্যদিকে ব্যাংকগুলো গ্রাহকের জমাকৃত অর্থ ঋণ হিসেবে ব্যবহার করে আয় করতে পারে। এ কারণে ব্যাংক চাইলে নিজস্ব উদ্যোগে বিভিন্ন অফার বা প্রণোদনা দিতে পারবে।

ইএআর/ইএ