ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অংশে বাইরের বিনিয়োগকারীদের অংশীদার করার বিতর্কিত পরিকল্পনাকে ‘প্রস্তাব’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এটি কোনোভাবেই সদস্য দেশগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তবে তার এই ব্যাখ্যাও ফুটবল বিশ্বের ক্ষোভ কমাতে পারেনি। বরং ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর বিরোধিতা আরও তীব্র হয়েছে।
Advertisement
সম্প্রতি ফিফা ঘোষণা দিয়েছে, বিশ্বকাপসহ তাদের প্রধান টুর্নামেন্টগুলো পরিচালনার জন্য ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি নতুন বাণিজ্যিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান (সাবসিডিয়ারি) গঠন করা হবে। সেই প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ শেয়ার বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনাও প্রকাশ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এই ঘোষণার পরই ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর-মধ্য আমেরিকার আঞ্চলিক ফুটবল কনফেডারেশনগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। তাদের অভিযোগ, এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা করা হয়নি এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।
এক ভিডিও বার্তায় ইনফান্তিনো বলেন, ‘এটি একটি গণতান্ত্রিক ও পরামর্শভিত্তিক প্রক্রিয়ার অংশ। এটি একটি সুযোগ, কোনো বাধ্যবাধকতা নয়। এখন আলোচনা শুরু হচ্ছে, এরপর সদস্যরাই সিদ্ধান্ত নেবেন।’
Advertisement
তিনি আরও দাবি করেন, ফিফার মূল দায়িত্ব বা বিশ্বকাপের ওপর কোনো বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে না। ‘ফিফা স্বাধীনভাবেই বিশ্ব ফুটবল পরিচালনা করবে। ফিফা বিশ্বকাপ ও নারী বিশ্বকাপের মতো প্রধান টুর্নামেন্টগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ সবসময় ফিফার হাতেই থাকবে’ বলেন ইনফান্তিনো।
ফিফা তাদের ২১১ সদস্য দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে এই পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানাতে।
সবচেয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে ইউরোপের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার কাছ থেকে। সংস্থাটি মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুটি পৃথক বিবৃতি দিয়ে ফিফার পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে।
উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার চেফেরিন জরুরি বৈঠক ডেকেছেন, যেখানে সদস্য দেশগুলো ফিফার এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে একটি যৌথ অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করবে।
Advertisement
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দাবি, ইউরোপের কয়েকটি দেশ প্রয়োজনে ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপ ও ফিফার অন্যান্য প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকিও বিবেচনা করছে, যদি ইনফান্তিনো এই পরিকল্পনা থেকে সরে না আসেন।
উয়েফা ছাড়াও উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনফেডারেশন কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন এএফসি পরিকল্পনাটির স্বচ্ছতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
উয়েফা তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ‘ফিফা সদস্যদের সামনে এমন একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে, যেখানে সমর্থন না করলে এককালীন আর্থিক সুবিধার প্রস্তাব তুলে নেওয়া হবে। এটিই এই পরিকল্পনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে।’
তারা আরও অভিযোগ করেছে, ‘ফিফা আমাদের খেলাকে নিজেদের এবং তাদের ঘনিষ্ঠদের সমৃদ্ধ করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারে না। এখন সময় এসেছে সদস্য সংস্থা, ক্লাব, লিগ, খেলোয়াড় ও সমর্থকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার।’
এএফসির ৪৭, কনকাকাফের ৪১ এবং উয়েফার ৫৫ সদস্য মিলিয়ে মোট ১৪৩টি সদস্য ফেডারেশন ইতোমধ্যেই এই পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনা বা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে তাদের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি মূল্যায়ন করা হবে। দক্ষিণ আমেরিকার কনমেবল এবং ওশেনিয়ার ওএফসি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অবস্থান জানায়নি।
বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক কাঠামো নিয়ে ফিফার এই পরিকল্পনা এখন বড় ধরনের বিতর্কে পরিণত হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে সদস্য দেশগুলোর ভোট ও অবস্থানই নির্ধারণ করবে ইনফান্তিনোর উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের ভবিষ্যৎ।
এমএমআর