ঢাকার অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিএনপিপন্থি একদল আইনজীবী।
Advertisement
তাদের অভিযোগ, রাষ্ট্রের পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগে এবার যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার চেয়ে অর্থনৈতিক লেনদেন এবং বিশেষ সুবিধা বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ব্যানারে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের এই অংশ নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তাদের দাবি, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এবং অতীতে জেল-জুলুমের শিকার অনেক আইনজীবীকে বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িত গুপ্ত-সুপ্ত সুবিধাভোগীদের রাষ্ট্রের আইনকর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
Advertisement
গত ৩০ জুলাই আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে আগের সব ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ বাতিল করা হয়।
একই সঙ্গে নতুন করে ৮৬ জনকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৭৯ জনকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এই নিয়োগের পর ২ আগস্ট প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের একাংশ। সোমবার (৩ আগস্ট) ছিল তাদের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন আগামীকাল মঙ্গলবারও কর্মসূচি চলবে।
সমাবেশে আইনজীবী রাশিদা আলিম ঐশী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে অভিযোগ তোলেন
Advertisement
তিনি আরও বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস থেকে ফ্যাসিস্ট মুক্ত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
সমাবেশে আবদুল্লাহ আল বাকী বলেন, আমরা কিন্তু ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনের ট্রেন্ডিংপ্রাপ্ত যোদ্ধা। কাজলকে সরাতে আমাদের কষ্ট হবে না।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা চলে গেলেও তার আত্মা এখনো এই বাংলাদেশ থেকে যায়নি, অ্যাটর্নি জেনারেল কাজলের ওপর সেই আত্মা ভর করেছে।
কাজলকে অ্যাটর্নি জেনারেল পদে রাখা হলে দেশে ফ্যাসিস্ট পুনঃস্থাপিত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, রাষ্ট্রের হয়ে মামলা পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আইনজীবী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা বিবেচনা করা উচিত ছিল।তাদের অভিযোগ, এবার সেই মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি।
সমাবেশে বক্তব্য দেন আইনজীবী শরীফ ইউ আহমেদ, আইয়ূব আলী আশরাফী, রেজাউল করিম, শাহরিয়ার কাকন, রাশিদা আলিম ঐশী, শাহিনা বেগম, আবদুল মান্নান, আমিরুল ইসলাম শানু, সাবিনা ইয়াসমিন লিপি, জহিরুল ইসলাম সুমন, আবদুল্লাহ আল বাকী, মাসুদ রানা, কোহিনুর পাপড়ি, হাবিবুর রহমান, আনিসুর রহমান খান ও আবদুস সামাদসহ অন্যরা।
এফএইচ/এমএসএম