মাদককাণ্ডে নাম জড়িয়ে পড়েছিল দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাফা কবিরের। ঘটনার এক বছর পর এবার সেই বিষয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন তিনি। তিনি জানান, একটি ভিত্তিহীন খবরে তার ক্যারিয়ার ও মানসিক অবস্থা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
Advertisement
২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার হন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র অরিন্দম রায় দীপ। তদন্তে তার মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট বিশ্লেষণ করে তদন্ত সংস্থা নারকোটিক্স কন্ট্রোল অধিদপ্তর (ডিএনসি) দাবি করে, দেশের কয়েকজন অভিনেত্রী- সাফা কবির, টয়া, তানজিন তিশা এবং সুনিধি নায়েক মাদকের অর্ডার ও ব্যবহার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ছিলেন।
ঘটনার দীর্ঘ এক বছর পর সাফা গণমাধ্যমে এ নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সেই খবরটা প্রকাশ পেল, আর রবিবার আমার একটা ব্র্যান্ড শুট ছিল। চুক্তিটা চূড়ান্ত ছিল। কিন্তু তারা সেটা বাতিল করে দেয়। আমি বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেছিলাম যে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই, কিন্তু ওদেরকে কীভাবে প্রমাণ করব? আমার হাতে কিছু প্রমাণ ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু তাই নয়, আমার সঙ্গে সিনিয়ররা কাজ করতে চাইছিলেন না। অনেকেই শিডিউল দিয়েও পরে তা বাতিল করে দিচ্ছিলেন। বিতর্ক এড়াতে অনেকেই আমার সঙ্গে কাজ করতে চাইছিলেন না তারা। আমি তখন বুঝতে পারছিলাম যা হচ্ছে তা খুব খারাপ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় চলছে। আমি একা হয়ে গিয়েছিলাম।’
Advertisement
তবে সেই সময় পাশে ছিলেন শোবিজের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সাফা বলেন, ‘তৌসিফ মাহবুব তখন বলেছিল, আমি সাফার সঙ্গে কাজ করব। জোভান, সিয়ামরা পাশে ছিল। আমি ভাগ্যবান, এখানে এমন বন্ধুদের পেয়েছি যারা আমাকে জনে। তারা আমাকে একা হতে দেয়নি। এই লড়াইয়ে সঙ্গী হয়েছিল।’
এদিকে ডিএনসির কর্মকর্তারা জানান, গ্রেফতার হওয়া দীপের হোয়াটসঅ্যাপ কল ও মেসেজ যাচাই করে অভিনেত্রীদের মাদক সংক্রান্ত অর্ডার, কথোপকথন ও নম্বর শনাক্ত করা হয়। যেসব নম্বর থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল, তার মধ্যে কয়েকটি সাফা কবির ও টয়ার নামে নিবন্ধিত, তানজিন তিশার নম্বরটি তাঁর মা উম্মে সালমার নামে রেজিস্টার্ড।
ডিএনসির এক সহকারী পরিচালক রাহুল সেন তখন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে আমরা দীপের কাছ থেকে কয়েকজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেলের মাদক সংশ্লিষ্টতার তথ্য পেয়েছি। তদন্ত চলছে, প্রমাণ নিশ্চিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সাফা কবির প্রশ্ন তোলেন, ‘এই ধরনের ঘটনায় বারবার নারীরাই কেন টার্গেট হন? কেন প্রমাণ ছাড়াই আমাদের নাম টেনে আনা হয়েছিল? শুধু একটা নিউজের কাটতি বাড়ানোর জন্য কত বড় মূল্য দিতে হয়েছে আমাকে, কেউ কি সেটা বোঝেন? হয়তো আমার মতো আরও অনেকে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।’
Advertisement
এলআইএ/জিকেএস