কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে (মালামাল রাখার স্থান) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মাঝরাত পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। মহেশখালী ও চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিটের আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
Advertisement
আগুন লাগা স্ক্র্যাপ ইয়ার্ড থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষম মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবস্থান।
মাতারবাড়ীর বেড়িবাঁধ এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, রাত ৯টার পর হঠাৎ টাউনশিপের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডের গুদামে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পাই আমরা। রাত ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের দুটি গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। কিন্তু আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছিল না।
স্থানীয়রা জানায়, ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় একাধিক ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ঘটনাস্থলের দিকে যায়। মাঝরাত পর্যন্ত সময়েও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
Advertisement
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য বলেন, মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার পরপরই মহেশখালী ও চকরিয়ার উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো নির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।
এদিকে, বিদ্যুৎকেন্দ্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাতারবাড়ীর সমাজকর্মী সমী উদ্দিন বলেন, মাতারবাড়ী টাউনশিপের খোলা জায়গায় স্ক্র্যাপ ইয়ার্ড গড়ে সেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত কাঠ, টিন, লোহার রডসহ বিভিন্ন মালামাল রাখা হয়। প্রায় সময় রাতের বেলায় লোকজন ঢুকে ইয়ার্ডের মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। সম্ভবত ফেলে দেওয়া সিগারেট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
Advertisement
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম অগ্নিকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে আগুন লেগেছে। কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। মহেশখালী ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে এবং প্রশাসনের দায়িত্বশীলগণ বিদ্যুৎকেন্দ্রের পৌঁছেছেন বলে জানান তিনি।
সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার/এসএএল/এমএসএম