বিনোদন

ইরানের নারীদের স্বাধীনতা চেয়ে বিতর্কে হ্যারি পটারের লেখিকা

হ্যারি পটার সিরিজের লেখিকা জে.কে. রাউলিং সম্প্রতি ইরানের নারীদের অধিকার রক্ষার আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন। তবে এই পদক্ষেপকে সমালোচনা করেছেন নেটিজেনরা। কারণ তিনি দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে গাজায় চলা গণহত্যা ও ফিলিস্তিনি নারীদের বঞ্চনার বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব ছিলেন।

Advertisement

রাউলিং সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘যদি আপনি মানবাধিকার সমর্থন করেন তবুও ইরানের জন্য দাঁড়াতে না পারেন তাহলে আপনার আসল মনোভাব প্রকাশ পাচ্ছে। এর মানে হলো যেসব মানুষ নিপীড়িত হচ্ছেন তাদের প্রতি আপনার কোনো সহানুভূতি নেই।’

নেটিজেনরা রাউলিংয়ের আচরণকে দেখেছেন নির্বাচনী নারীবাদ বা ‘শর্তযুক্ত সহানুভূতি’ হিসেবে। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ফিলিস্তিনে গণহত্যার সময় তিনি নীরব ছিলেন। কিন্তু ইরান নিয়ে হঠাৎ উৎসাহ প্রকাশ করছেন। এটি প্রকৃত সহমর্মিতা নয় বরং নির্বাচনী নৈতিকতা প্রদর্শন।

আরও পড়ুনবড়দের মঞ্চে ১৬ বছরের কিশোরের বাজিমাতগোল্ডেন গ্লোবের লাল গালিচায় স্বামীর টাই ঠিক করে ভাইরাল প্রিয়াঙ্কা

Advertisement

আরও অনেকেই রাউলিংকে সমালোচনা করেছেন। তাকে একধরনের পশ্চিমা মানসিকতার প্রতীক হিসেবে দেখছেন। যেখানে নারীদের অধিকার শুধুমাত্র তখনই গুরুত্বপূর্ণ যখন তা ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে মিলে যায়। কিছু ব্যবহারকারী রাউলিংয়ের অতীত ট্রান্সফোবিয়া বিতর্ককেও মনে করিয়ে দিয়েছেন। তারা দাবি করেন, যিনি নিজের দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে কঠোর আচরণ করেন তিনি বিদেশে স্বাধীনতা বা মুক্তি নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। বিষয়টি হাস্যকর।

নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়ায় এও উঠে এসেছে যে রাউলিং বা পশ্চিমারা তখনই মানবতা দেখায় যখন মুসলিমদের ছোট করার সুযোগে মেলে। পশ্চিমা রাজনীতির প্রত্যাশার সঙ্গে মিলে গেলে তবেই তারা কথা বলেন। অন্যথায় চুপ।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, সত্যিকারের সমর্থন হলো মানুষের সংগ্রামের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু এটি কখনও শূন্য বা অন্যান্য অবিচারের সঙ্গে আলাদা অবস্থায় প্রকাশ করা উচিত নয়।

রাউলিং হয়তো বিশ্বাস করেন তিনি ন্যায়বিচারের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। তবে ইতিহাস প্রশ্ন করে, আপনি কখনো অন্য কোনো নির্যাতনের বিপক্ষে কথা বলেছেন কি না? যখন কেউ বেছে বেছে বিপ্লব করেন তখন সেটা বিপ্লব থাকে না। সেটি হয় স্বার্থের কাজ।

Advertisement

 

এলআইএ