যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের নাগরিকদের দেশব্যাপী বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়া উচিত। একইসঙ্গে যখন ইরানের সরকার কঠোর হাতে গণ-আন্দোলন দমন করছে তখন তাদের বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠান দখল করে নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
Advertisement
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘দেশপ্রেমি ইরানিরা, বিক্ষোভ চালিয়ে যান-আপনাদের দপ্তরগুলো দখল করে নিন!!!’
‘হত্যাকারী এবং নিপীড়নকারীদের নামগুলো মনে রাখবেন। তাদেরকে এর চরম মূল্য দিতে হবে।’
‘নির্মমভাবে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধের আগ পর্যন্ত আমি ইরান সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব ধরনের আলোচনা বাতিল করে দিয়েছি। সাহায্য আসছে।’
Advertisement
ইরানে নিয়মিতই সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেওয়া ট্রাম্প পোস্টের শেষে MIGA লিখে সই করেন। MIGA হলো Make Iran Great Again (ইরানকে আবার মহান করো) এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
তবে ঠিক কীভাবে তার প্রতিশ্রুত সাহায্য পাঠাবেন সে বিষয়টি ট্রাম্প তার পোস্টে স্পষ্ট করেননি। অবশ্য একদিন আগে ইরান সম্পর্কে আমেরিকার যে অবস্থান ছিল তার পরিবর্তে ট্রাম্পের এই বার্তা ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সরকার পতনের প্রতি তার সুস্পষ্ট সমর্থনেরই ইঙ্গিত দেয়।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট সাংবাদিকদের জানান, তেহরানের জন্য এখনও কূটনীতির দরজা খোলা রয়েছে। ইরান প্রকৃতপক্ষে ‘একদমই আলাদা সুরে’ ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
একই দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করবে এমন সব দেশের ওপর নতুন করে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন।
Advertisement
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবে শাহ-রা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই প্রথম টানা কয়েকদিনের ব্যাপক গণ-আন্দোলন ও বিক্ষোভ ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে ইতিহাসে অন্যতম কঠিন এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ইরান সরকার এরইমধ্যে চলমান আন্দোলনকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে।
তবে, মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইরানের সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের ওপর সরাসরি গুলি ছোড়ার পাশাপাশি চারদিন ধরে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মাধ্যমে বিশ্ববাসী থেকে প্রকৃত সত্য আড়ালের অভিযোগ তুলেছে।
সোর্স: এএফপি
এএমএ