ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফেরদৌস আরার আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো জেলা প্রশাসনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ৭টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সদাহাস্যোজ্জ্বল এই কর্মকর্তার অকাল প্রয়াণে হতবিহ্বল তার সহকর্মী ও বাঞ্ছারামপুরবাসী।
Advertisement
উপজেলা প্রশাসনের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা তায়েফুল লতিফ জানান, গত রোববার জেলা প্রশাসনের মিটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন ইউএনও ফেরদৌস আরা। মিটিং শেষে ফেরার পর অসুস্থ বোধ করলে তিনি ঢাকায় চলে যান। সোমবার তাকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং বুধবার সকালে সেখানেই তিনি মারা যান।
তিনি আরও বলেন, মেডামের একমাত্র শিশু কন্যা ফাতিহা তার সাথেই থাকতেন। তার স্বামী কুমিল্লার দাউদকান্দিতে শিক্ষকতা করেন। শিশু ফাতিহার কথা ভেবে আরও বেশি খারাপ লাগছে।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রবিউল হাসান ভূইয়া বলেন, তিনি খুবই ভাল মানুষ ছিলেন। সাধারণ মানুষ কখনও তার কাছে এসে নিরাশ হননি। আমরা শোকাবহ, কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।
Advertisement
ইউএনও ফেরদৌস আরার মৃত্যুতে শোকাহত ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুরো জেলা প্রশাসন। শোক জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা।
জানা যায়, ফেরদৌস আরা বিসিএস ৩৬তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের একজন দক্ষ কর্মকর্তা ছিলেন। গত ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি তিনি বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার পৈতৃক নিবাস চাঁদপুর জেলায় হলেও জন্ম ঢাকায়। তার স্বামী কুমিল্লার দাউদকান্দিতে শিক্ষকতা করেন এবং তাদের একটি শিশু কন্যা রয়েছে।
আবুল হাসনাত মো. রাফি/কেএইচকে/এএসএম
Advertisement