দেশের শেয়ারবাজারে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে বিমা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি বেড়েছে সবকটি মূল্যসূচক। তবে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান থাকলেও মূল্যসূচক বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।
Advertisement
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে অন্য খাতেও। ফলে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৭৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৩৪টির। আর ৮৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে তালিকাভুক্ত বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৫২টির শেয়ার দাম বেড়েছে। আর ৪টির শেয়ার দাম কমেছে এবং দুটির শেয়ার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে, ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১০৮টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৬০টির দাম কমেছে এবং ৪০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩৮টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ২৯টির দাম কমেছে এবং ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
Advertisement
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৮টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪৫টির এবং ৩২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৬টির দাম কমেছে এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
অধিকাংশ বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার দিনে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৯ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৯৬৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে ৯৯৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯০৮ পয়েন্টে উঠে এসেছে।
সবকটি মূল্যসূচক বাড়লেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩৬৯ কোটি ৬৭ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩৮৬ কোটি ৩৪ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে টানা তিন কার্যদিবস ডিএসইতে লেনদেন তিনশো কোটি টাকার ঘরে থাকলো।
এ লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে এসিআইয়ের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১০ কোটি ২৬ লাখ টাকার। ৯ কোটি ২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সিটি ব্যাংক।
Advertisement
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- ওরিয়ন ইনফিউশন, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, সায়হাম টেক্সটাইল, বিডি থাই ফুড, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স ও ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৩০ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬১ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৮টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭০টির এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
এমএএস/এমকেআর/জেআইএম