খেলাধুলা

বরফ গলবে কি? নাজমুল ইস্যুতে অনড় কোয়াব, অচল বিপিএল

‘বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম নিজে সরে না দাঁড়ালে কিংবা বিসিবি তাকে পদচ্যুত না করলে আমরা আর মাঠে নামব না, বিপিএল খেলব না।’ বৃহস্পতিবার সকালে জাগো নিউজকে এমন কঠোর বক্তব্যই দেন কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন।

Advertisement

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিসিবিও এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর পরপরই কোয়াব থেকে জানানো হয়, বনানীর শেরাটন হোটেলে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে কথা বলবেন কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন।

এদিকে শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গেট খুলে দেওয়া হয়। অল্পসংখ্যক ক্রিকেট অনুরাগী গ্যালারিতে অবস্থান নেন। মাঠ প্রস্তুতির সব কাজ শেষ—পিচ পরিচর্যা, সীমানা নির্ধারণ থেকে শুরু করে ম্যাচ আয়োজনের আগের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন। এমনকি নিয়ম অনুযায়ী দল মাঠে নামার আগে পিচ ঢাকার চটও বিছানো ছিল এবং দুই প্রান্তে স্টাম্প বসানো ছিল।

সব দেখে মনে হচ্ছিল, কোয়াবের সভা থেকে হয়তো ক্রিকেটারদের অনমনীয় অবস্থান থেকে সরে মাঠে ফেরার ঘোষণা আসবে। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, কোয়াব সভাপতি বলবেন, ‘আমরা এখনো আমাদের দাবিতে অনড়। আগের মতোই বোর্ড পরিচালক নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ বা অপসারণ চাই। তবে বিসিবি যেহেতু একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে এবং তাকে শোকজ করা হয়েছে, সে কারণে আমরা আশ্বস্ত। তাই বিপিএল না খেলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে মাঠে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

Advertisement

কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে তার ঠিক উল্টোটা। বনানীর শেরাটন হোটেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ, নুরুল হাসান সোহান, নাজমুল হোসেন শান্ত, শামসুর রহমান শুভ ও লিটন দাস। তারা একে একে নানা বিষয়ে কথা বলেন। তবে বক্তব্যগুলো অনেকটাই ছিল মূল প্রসঙ্গের বাইরে— প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ চালু না হওয়া, তা আয়োজন করতে বিসিবির ব্যর্থতা, নারী ক্রিকেটার জাহানারার আবেদনের পরও দোষীদের বিচার না হওয়া—এমন নানা আনুষঙ্গিক বিষয়ে দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন স্পষ্ট করেন, ‘আমরা আগের অবস্থানেই আছি। বোর্ড আমাদের দাবি মেনে নিলেই আমরা মাঠে ফিরব।’

নুরুল হাসান সোহান ও নাজমুল হোসেন শান্তও ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একই কথা বলেন। তবে পরক্ষণেই স্পষ্ট করা হয়— দাবি মানে একটাই, এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ অথবা বিসিবি থেকে অপসারণ। অন্যথায় তারা অবস্থান থেকে সরবেন না।

উল্লেখ্য, বোর্ড পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম এর আগে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ওপেনার তামিম ইকবালকে ফেসবুক পোস্টে আপত্তিকর ভাষায় আক্রমণ করে ‘ভারতীয় দালাল’ বলে অভিহিত করেন। এতে তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। এরপরও তার অসংলগ্ন বক্তব্য ও বেপরোয়া আচরণ থামেনি। বুধবার জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নিয়েও অবজ্ঞাসূচক মন্তব্য করেন তিনি, যা ক্রিকেটারদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তোলে।

Advertisement

এরই পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার কোয়াব এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। তবে নাজমুল ইসলামকে শোকজ করার পরও ক্রিকেটারদের ক্ষোভ কমেনি; তারা এখনো অনড়।

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে এম নাজমুল ইসলামকে বিসিবির অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এতে বরফ গলবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বিসিবির একাধিক পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিশ্চিত করেছেন, এম নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরানো হয়েছে। তারা বলেন, ‘বিসিবি কোনো পরিচালককে সরাসরি অপসারণ করতে পারে না— গঠনতন্ত্রে সেই সুযোগ নেই। শোকজ করা এবং যে স্ট্যান্ডিং কমিটির তিনি চেয়ারম্যান ছিলেন, সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়াই আপাতত বোর্ডের সর্বোচ্চ ব্যবস্থা।’

এখন প্রশ্ন একটাই—এই সিদ্ধান্তে কি ক্রিকেটারদের ক্ষোভ প্রশমিত হবে, নাকি অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হবে?

এআরবি/আইএইচএস/