লাইফস্টাইল

শিশু কোলে নিয়ে মায়ের গান শুধু আদর নয়, জানুন পেছনের বিজ্ঞান

মা যখন শিশুকে কোলে নিয়ে গান গায়, সাধারণভাবে হয়তো আমরা সেটা শুধু আদর বা অভ্যাস মনে করি। কিন্তু আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান বলছে — মায়ের গান শিশুর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রে তাৎক্ষণিক এবং গভীর প্রভাব ফেলে।

Advertisement

এটি শুধু আবেগের বিষয় নয়, এর পেছনে শক্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও আছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মায়ের কণ্ঠস্বর শোনার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই শিশুর হৃদস্পন্দন ধীরে আসে, শ্বাস-প্রশ্বাস স্থির হয় এবং স্নায়ুতন্ত্র শান্ত অবস্থায় চলে যায়।

বিশেষ করে গান গাওয়ার সময় কণ্ঠের সুর, ছন্দ ও পরিচিত শব্দ শিশুর মস্তিষ্কে নিরাপত্তার সংকেত পাঠায়। এতে শিশুর শরীরে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা কমতে শুরু করে।

শিশুর স্নায়ুতন্ত্র জন্মের পর ধীরে ধীরে বিকশিত হয়। এই সময় তারা সবচেয়ে বেশি সাড়া দেয় পরিচিত কণ্ঠ, নিয়মিত ছন্দ এবং পূর্বানুমেয় শব্দে। মায়ের গান সেই চাহিদাই পূরণ করে। মা যদি নিজে মনেও করেন যে তার গানের গলা ভালো না, শিশুর কাছে সেটা একেবারেই গুরুত্বহীন। শিশুর কাছে মায়ের কণ্ঠ মানেই নিরাপদ, পরিচিত এবং শান্তির উৎস।

Advertisement

নিয়মিত মায়ের গান শিশু শেখায় — কষ্ট, ভয় বা অস্বস্তির পরও আবার শান্ত হওয়া যায়। এতে শিশুর আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বাড়ে, আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় এবং মা–শিশুর বন্ধন আরও গভীর হয়। গবেষকেরা বলছেন, এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে শিশুর ঘুমের অভ্যাস, মানসিক স্থিতি এবং চাপ সামলানোর ক্ষমতার ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুকে গান শোনানোর জন্য আলাদা সময় বা বিশেষ প্রস্তুতির দরকার নেই। ঘুম পাড়ানোর সময়, কান্নার মুহূর্তে বা দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে হালকা সুরে গান গাইলেই যথেষ্ট। লালনগীতি হোক বা নিজের বানানো সুর — সবই কার্যকর।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মায়ের গান একটি সহজ, প্রাকৃতিক এবং বিনামূল্যের ‘ওষুধ’, যা শিশুর স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে, মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়তা করে এবং আজীবনের মানসিক সুস্থতার ভিত্তি গড়ে দেয়।

সূত্র: হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল, ফ্রন্টিয়ার্স ইন সাইকোলজি, ন্যাচার নিউরোসায়েন্স জার্নাল, আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স

Advertisement

এএমপি/জেআইএম