দেশজুড়ে

কঠোর অভিযানেও মানবিকতার চিত্র দেখালেন ম্যাজিস্ট্রেট

সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও বাস্তুসংস্থান সংরক্ষণে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

Advertisement

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দিনব্যাপী এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস ইনতেসার নাফি। অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর, টুরিস্ট পুলিশ ও সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা অংশ নেন।

অভিযানকালে পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে প্রিন্স হ্যাভেন রিসোর্ট, জোয়ার-ভাটা রেস্তোরাঁ, ড্রিমস প্যারাডাইস রিসোর্ট ও প্রাসাদ প্যারাডাইস রিসোর্টকে মোট ৭৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করা হয়।

এসময় ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে নিষিদ্ধ সিংগেল-ইউজ প্লাস্টিকের কাপ ও স্ট্র জব্দ করা হয়। দুইটি রেস্তোরাঁ থেকে পচা ও বাসি খাবার উদ্ধার করে তা মাটিচাপা দেওয়া হয়।

Advertisement

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস ইনতেসার নাফি বলেন, দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নিবন্ধনবিহীন প্রতিষ্ঠান, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সিংগেল-ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এ কার্যক্রম আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।

অপর দিকে জানা গেছে, অভিযানের একপর্যায়ে দেখা যায় সেন্টমার্টিন উত্তর-পশ্চিম বিচে নিষিদ্ধ সিংগেল-ইউজ প্লাস্টিকের কাপে চা বিক্রি করতে দেখা যায় আবুল হোসেন নামের এক বয়স্ক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে। নিয়ম অনুযায়ী তার বিরুদ্ধেও জরিমানার বিধান থাকলেও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেন।

বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি ওই প্রতিবন্ধী বৃদ্ধকে জরিমানা না করে তার কাছে থাকা সব প্লাস্টিকের কাপ নিজ অর্থে কিনে নেন। একই সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে তাকে সচেতন করেন ও ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব উপায়ে ব্যবসা পরিচালনার পরামর্শ দেন।

জানা যায়, প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ আবুল হোসেন সেন্টমার্টিন পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা। তিনি জীবিকার তাগিদে বৃদ্ধ বয়স ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও আবুল হোসেন সমুদ্রসৈকতে চা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন। তার সংসারে এক ছেলে ও পাঁচ মেয়ে রয়েছে। দৈনন্দিন খরচ জোগাড় করতে তিনি এ পেশায় যুক্ত হন।

Advertisement

জাহাঙ্গীর আলম/এমএন/জেআইএম