পূর্বাচলের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ক্রেতা-দর্শনার্থীদের পদচারণায় জমে উঠেছে। মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়নে শোভা পাচ্ছে নানা সামগ্রী। তবে মেলায় ব্যতিক্রমী প্যাভিলিয়ন করে ক্রেতাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশন। এই প্যাভিলিয়নটিতে শোভা পেয়েছে পাঁচ নারী উদ্যোক্তার তৈরি পণ্য। এসব পণ্য কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতারা।
Advertisement
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় এসএমই ফাউন্ডেশনের প্যাভিলিয়নে গিয়ে এমনই চিত্র চোখে পড়ে।
বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) ফাউন্ডেশনের অধীনে মোট ১২টি স্টল অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে পাঁচজন নারী উদ্যোক্তা স্টল বরাদ্দ পেয়েছেন।
এসএমই ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, শিল্প মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণাধীন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) ফাউন্ডেশনের অধীনে ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের স্বাবলম্বী করতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে থেকেও ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তারা এখানে অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন ধরনের পণ্যের প্রদর্শন এবং উদ্যোক্তাদের মধ্যে একটি নেটওয়ার্কিং তৈরি করছেন। অন্যদিকে নতুন নতুন আইডিয়া কাজে লাগিয়ে তারা প্রোডাক্টের বৈচিত্র্য আনার সুযোগ পাচ্ছেন।
Advertisement
এবারের মেলায় এসএমই ফাউন্ডেশনের অধীনে রাহেলা জুট ক্রাফট, সেইফ ট্রেডিং কর্পোরেশন (সতেজ), দেশি আরশি এবং ফাতিহা ড্রাই ফুডসহ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের পাঁচজন নারী উদ্যোক্তার নামে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
নারী উদ্যোক্তাদের এসব স্টলে চামড়ার জুতা, বিভিন্ন ধরনের চামড়ার ব্যাগ, থ্রি-পিস, শাড়ি, বাচ্চাদের শার্ট-প্যান্ট এবং পাট দিয়ে তৈরি ম্যাট, ওয়াল ম্যাট, লেডিস এবং জেন্টস ব্যাগ, বাজারের ব্যাগ, অফিসিয়াল ফাইল ফোল্ডার ও শোপিস রয়েছে। সেইসঙ্গে বিভিন্ন খাবারের আইটেম, ড্রাই ফুড, মোয়া, আচারসহ পণ্য বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা আগ্রহ নিয়ে এসব পণ্য দেখছেন এবং কিনছেন।
আলী হোসেন টিটু নামে এক দর্শনার্থী বলেন, বাণিজ্য মেলার অন্য সব স্টলের চেয়ে এসএমই ফাউন্ডেশনের স্টল ভিন্ন। তারা সরকারি সহায়তা নিয়ে নারী উদ্যোক্তা তৈরি করে এবং স্বাবলম্বী করে তোলে। মেয়েদের তৈরি বিভিন্ন পণ্য এখানে বিক্রি হচ্ছে। এটা খুবই ভালো উদ্যোগ।
রাহেলা জুট ক্রাফট স্টলের নারী উদ্যোক্তা শামীম আরা দীপা বলেন, শখ করেই ২০১০ সালে পাট দিয়ে পণ্য তৈরি করে অনলাইনে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। এই ব্যবসায় সফলতার সুবাদে এখন জুট দিয়ে পণ্য তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছেন। মতিঝিলে মেগা শপিং মলে তার একটি ছোট্ট শপ রয়েছে।
Advertisement
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলাসহ দেশের বাইরেও তিনি ভারত, নেপাল এবং জার্মানিতে নিজের তৈরি করা পণ্যের প্রদর্শনী করার সুযোগ পেয়েছেন। তার অনলাইন ব্যবসা, কারখানা ও শপে বেশ কিছু লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে ব্যবসায় আরও প্রসার ও কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারবেন বলে জানান তিনি।
এসএমই ফাউন্ডেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক নাজমা খাতুন বলেন, মেলায় এসএমই ফাউন্ডেশনের অধীনে মোট ১২ জন উদ্যোক্তা স্টল বরাদ্দ পেয়েছেন। এর মধ্যে নারী উদ্যোক্তা রয়েছে পাঁচজন। তারা যদি ব্যক্তি উদ্যোগে এখানে স্টল বরাদ্দ নিতে চাইতেন, তাহলে তাদের অনেক টাকা ব্যয় করতে হতো, যা অনেকের পক্ষে সম্ভব ছিলো না। যেসব ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তারা স্টল বরাদ্দ পেয়েছেন, তাদের এসএমই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ভর্তুকি দিয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের স্বাবলম্বী করতেই এসএমই ফাউন্ডেশন এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
মেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩২৭টি প্যাভিলিয়ন, স্টল ও রেস্তোরাঁ দেশীয় উৎপাদক-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট (খেজুরবাগান/খামারবাড়ি), নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বাণিজ্য মেলার উদ্দেশ্যে বিআরটিসির ২০০টির বেশি ডেডিকেটেড শাটল বাস চলছে।
নাজমুল হুদা/এফএ/জেআইএম