হিজরি ক্যালেন্ডারের অষ্টম মাস শাবান ইসলামে বিশেষ ফজিলতপূর্ণ মাস। নবীজি (সা.) এ মাসে অন্যান্য মাসের তুলনায় বেশি রোজা রাখতেন ও আমল করতেন। এর কারণ হিসিবে তিনি বলেছেন, এ মাসে বান্দার আমল আল্লাহ তাআলার দরবারে পেশ করা হয়।
Advertisement
ওসামা ইবনে জায়েদ (রা.) বলেন, এক দিন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনাকে শাবান মাসে যতো বেশি রোজা রাখতে দেখি অন্য কোন মাসে তো দেখি না, এর কারণ কী? উত্তরে তিনি বললেন, রজব ও রমজানের মাঝে এ মাস সম্বন্ধে মানুষ উদাসীন, এটা তো সেই মাস; যে মাসে বিশ্ব জাহানের প্রতিপালকের কাছে মানুষের আমলসমূহ পেশ করা হয়। তাই আমি পছন্দ করি যে, রোজা অবস্থায় আমার আমল আল্লাহর কাছে পেশ করা হোক। (সুনানে নাসাঈ: ২৩৫৭)
শাবান মাসে নবীজির (সা.) বেশি রোজা রাখার বিষয়টি অন্যান্য হাদিসেও বর্ণিত হয়েছে। আয়েশা (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসুলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজান ছাড়া অন্য কোনো মাসে প্রতিদিন রোজা রাখতে দেখিনি এবং শাবান মাসের চেয়ে বেশি নফল রোজা আর কোনো মাসে রাখতে দেখিনি। (সহিহ বুখারি: ১৯৬৯)
আব্দুল্লাহ ইবনে আবি কায়স (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছে অন্যান্য মাসের তুলনায় শাবান মাসে নফল রোজা রাখা বেশি পছন্দনীয় ছিল। তিনি এ মাসে রোজা রেখে তা রমজানের সাথে যুক্ত করতেন। (সুনানে আবু দাউদ: ২১০১)
Advertisement
শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি ইসলামে বিশেষ ফজিলতপূর্ণ রাত। এ রাত সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন, অর্ধ শাবানের রাতে আল্লাহ সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টিপাত করেন। অতঃপর শিরককারী ও বিদ্বেষপোষণকারী ছাড়া তার সব সৃষ্টিকে ক্ষমা করে দেন। (সুনানে ইবনে মাজা: ১৩৯০)
তাই শাবান মাস এলে নফল রোজা ও অন্যান্য নফল ইবাদত বাড়িয়ে দিন। আইয়ামে বিজের রোজা অর্থাৎ শাবান মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রোজা রাখার চেষ্টা করুন। প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবারও রোজা রাখুন। এগুলো ছিল নবীজির (সা.) সারা বছরের আমল। বছরের অন্যান্য মাসগুলোতে না পারলেও অন্তত এ মাসে এ সুন্নতগুলো পালন করার চেষ্টা করুন।
শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে সব রকম শিরক থেকে তওবা করুন, আত্মীয়-স্বজন ও গরিব-দুঃখীদের দান করুন, হাদিয়া দিন। অন্তর থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে দিন। হতে পারে আল্লাহ তাআলার ব্যাপক রহমত ও ক্ষমায় আপনিও শামিল হয়ে যাবেন।
ওএফএফ
Advertisement