জাতীয়

ইরানে সহিংসতায় নিহতদের ৭৮ শতাংশ খামেনির ‘সমর্থক’

ইরানে টানা দুই সপ্তাহের বিক্ষোভ ও সহিংসতায় নিহতদের ৭৮ শতাংশই দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সমর্থক তথা সরকারপক্ষের। তাদেরকে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান শহীদ আখ্যা দিয়েছে। নিহতদের মাত্র ২২ শতাংশ মানুষ দেশটির সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারী।

Advertisement

ঢাকায় নিযুক্ত ইরান দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর সাইয়্যেদ রেজা মীর মোহাম্মাদী এ তথ্য জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এ তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

সাইয়্যেদ রেজা মীর মোহাম্মাদী বলেন, ইরানে দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে মোট তিন হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই হাজার ৪২৭ জন সরকারেরপক্ষের, যাদের সরকার শহীদ হিসেবে আখ্যাও দিয়েছে। আর সরকারের বিপক্ষে তথা বিক্ষোভকারীদের মধ্যে নিহত হয়েছেন ৬৯০ জন।

সরকারবিরোধী সহিংসতাকে সুপরিকল্পিত হাইব্রিড যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করে তিনি দাবি করেন, সাধারণ অর্থনৈতিক দাবির আড়ালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে এবং প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে ভয়াবহ নাশকতা চালানো হয়েছে।

Advertisement

সহিংসতায় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তুলে ধরে কাউন্সেলর সাইয়্যেদ রেজা মীর মোহাম্মাদী বলেন, বিক্ষোভকালে ৭৫০টি ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩৫০টি মসজিদে আগুন দেওয়া হয়েছে। ৭০০টি মার্কেট প্যালেস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৩০৫টি বাস, ৮০০টি প্রাইভেট কার, ৬০০টি এটিএম বুথ, ২৫০টি বাসস্ট্যান্ড এবং ৮০৯টি মাদরাসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিক্ষোভ শুরুর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ইরান দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর জানান, গত ১ জানুয়ারি থেকে ইরানের ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। ইরানের মুদ্রার সঙ্গে ডলার ও ইউরোর দামের ব্যবধান বেড়ে যাওয়ায় তারা বিক্ষোভে নামেন। তারা সরকারকে এ সমস্যার সমাধান করতে বলেন। এটি স্বাভাবিক বিষয় এবং সারা বিশ্বেই এমন হতে পারে। তবে বিক্ষোভে আমেরিকা ও ইসরায়েল ইন্ধন দেয়। এতে বিক্ষোভ তেহরানের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, ওই সময় একটি গ্রুপ লুটপাট শুরু করে। তারা মসজিদেও হামলা চালায়। এর বিরুদ্ধে ১২ জানুয়ারি ইরানের সাধারণ জনগণ পাল্টা বিক্ষোভ করেন। ইরান সরকারের পক্ষে তেহরানে প্রায় ৩০ লাখ এবং সারাদেশে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে আসে। এর ভিডিও ফুটেজ রয়েছে, যা চাইলেই যে কেউ দেখতে পারেন।

কালচারাল কাউন্সেলর জানান, পাশ্চাত্য মিডিয়ার খবর দেখলে মনে হবে ইরান সরকারের পতন হয়ে গেছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। ইরান সরকারের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরায়েল ষড়যন্ত্র করে চলেছে। অনেক আন্দোলনকারীকে ইরানের বাইরে নিয়ে গিয়ে নানা প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। তবে সব ষড়যন্ত্র ইরান সরকার রুখে দিয়েছে। ইরান এবার দেখিয়ে দিয়েছে যে, কীভাবে একটি দেশে স্টারলিংক বন্ধ করে দেওয়া যায়।

Advertisement

ব্রিফিংয়ের বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানের সুম্পর্কের কথা উল্লেখ করে কাউন্সেলর সাইয়্যেদ রেজা মীর মোহাম্মাদী বলেন, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনের পর নতুন সরকারের সঙ্গে এ সুসম্পর্ক আরও এগিয়ে নেবে ইরান।

এএএইচ/ইএ