ওজন কমানোর চেষ্টায় অনেকেই খাবার কমিয়ে দেন বা প্রিয় খাবার বাদ দেন। এতে দ্রুত ওজন কমলেও শরীরে পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমাতে হলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অবশ্যই রাখতে হবে পুষ্টিকর খাবার-আর সেই তালিকায় ডিমের নাম সবার আগে।
Advertisement
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমাতে হলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবার রাখা অত্যন্ত জরুরি। ডিমে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজ শরীরকে শক্তিশালী রাখে, মেটাবলিজম ঠিক রাখে এবং ওজন কমানোর পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ডিম খেলে কি ওজন বাড়ে?অনেকের ধারণা, ডিম খেলে ওজন বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভাজা ডিমে ক্যালোরি বেশি থাকায় এই ভয় আরও জোরালো হয়। তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন, সঠিক নিয়মে ডিম খেলে ওজন বাড়ে না, বরং মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। তাই ডিম বাদ না দিয়ে কীভাবে খাচ্ছেন, সেটাই আসল বিষয়।
ভাজা নয়, স্বাস্থ্যকর ভাবে ডিম খানডিম ভাজা খেতে সুস্বাদু হলেও এতে অতিরিক্ত তেল ব্যবহারের কারণে ক্যালোরি বেড়ে যায়। ওজন কমাতে চাইলে ভাজা ডিম এড়িয়ে চলাই ভালো। এর পরিবর্তে সেদ্ধ ডিম, অল্প তেলে ওমলেট বা সবজির সঙ্গে ডিম রান্না করে খেতে পারেন।
Advertisement
সকালের নাস্তায় ডিম জরুরিসকালের নাস্তা দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার। এই সময় ডিম খাওয়া শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী। ডিমের সাদা অংশে থাকে উচ্চমানের প্রোটিন, যা পেশি গঠনে শক্তিশালী রাখে। ডিমের কুসুমে রয়েছে ভালো ফ্যাট, আয়রন এবং ভিটামিন, যা শরীরের শক্তি ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
ডিমে আরও আছে ভিটামিন এ, যা দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে সহায়তা করে। কুসুমে থাকা ভিটামিন ডি হাড়কে মজবুত রাখে এবং হাড়ের রোগ প্রতিরোধে কার্যকর।
পুষ্টিবিদদের মতে, সকালের নাস্তায় প্রতিদিন একটি করে ডিম খাওয়া শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেয় এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সহায়ক।
ওজন নিয়ন্ত্রণেও ডিম গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় ২-৩টি ডিম খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে এবং বারবার ক্ষুধা লাগে না। ফলে ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
Advertisement
ডিমে আছে যে পুষ্টিগুণডিম শুধু প্রোটিনের উৎসই নয়, এতে রয়েছে ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন ডি ও আয়রন। এসব উপাদান শরীরকে শক্তিশালী রাখে, ক্লান্তি কমায় এবং ওজন কমানোর সময় পুষ্টির ঘাটতি হতে দেয় না। ডিমের সঙ্গে পালং শাক, ক্যাপসিকাম বা টমেটোর মতো সবজি মিশিয়ে খেলে অতিরিক্ত ফাইবার ও ভিটামিন পাওয়া যায়। এতে খাবার আরও স্বাস্থ্যকর হয় এবং হজম শক্তিশালী থাকে।
ডিমের সঙ্গে ক্যাপসিকাম পুষ্টিবিদদের মতে, ডিমের সঙ্গে ক্যাপসিকাম মিশিয়ে রান্না করলে তা দেখতে যেমন আকর্ষণীয় হয়, তেমনি ওজন কমাতেও সহায়ক। ক্যাপসিকামে থাকা ভিটামিন ‘সি’ শরীরের মেদ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
চিলি ফ্লেক্স যোগ করলে কী লাভঅনেকেই ওমলেটে চিলি ফ্লেক্স দিতে পছন্দ করেন। ওজন কমানোর যাত্রায় এটি ভালো সাহায্য করতে পারে। মরিচ বা চিলি ফ্লেক্স শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে ফ্যাট বার্নিং প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে।
কোন তেল ব্যবহার করবেনডিম ভাজার ক্ষেত্রে সয়াবিন তেল এড়িয়ে চলাই ভালো। গবেষণায় দেখা গেছে, এতে ফ্যাটের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। এর বদলে অল্প পরিমাণ সরিষার তেল বা নারিকেল তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।
কুসুমসহ ডিম খানপ্রতিদিন একটি ডিম কুসুমসহ খাওয়া নিরাপদ। তবে যদি একের বেশি ডিম খান, সে ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ডিমের কুসুম বাদ দিয়ে শুধু সাদা অংশ খাওয়াই ভালো।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, বোল্ডস্কাই
আরও পড়ুন: পেট ভালো রাখার ফাইবার কীভাবে মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে যেসব কারণ শীতে পানিশূন্যতা বাড়ায়
এসএকেওয়াই/