আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের ‘যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায়’ ডলারের দাম ৪ বছরে সর্বনিম্ন

ট্রাম্পের ‘যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায়’ ডলারের দাম চার বছরে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডলারের দরপতন নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়ার একদিন পরেই তৈরি হয়েছে এমন রেকর্ড।

Advertisement

মঙ্গলবার ট্রাম্পের মন্তব্যের পরপরই বিশ্বের প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে মার্কিন ডলারের মান ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে যায়। টানা চারদিনের দরপতনের পর বুধবার সকালে ডলারের মান কমেছে আরও ০ দশমিক ২ শতাংশ।

অর্থনীতি নিয়ে নিজের সাফল্য তুলে ধরতে আইওয়া সফরে গিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয় এটা দারুণ।’ ডলারের দরপতন নিয়ে উদ্বিগ্ন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ডলারের মূল্য—ব্যবসা দেখুন আমরা কী করছি। ডলার ভালোই করছে।’

আরও পড়ুন>>ডলারের আধিপত্য কি শেষের পথে?প্রথমবার ১০০ ডলার ছাড়ালো রুপা, সোনার দাম ৫০০০ ডলার ছুঁইছুঁইনির্বাচন পেছানোর জন্যই কি ট্রাম্পের এই ‘যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা’?

Advertisement

অথচ বাস্তবতা বলছে, গত এক বছরে ডলারের মান কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ। মঙ্গলবারের পতন ছিল গত বছরের এপ্রিলের পর একদিনে সবচেয়ে বড় দরপতন। ওই সময় ট্রাম্প ব্যাপক শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করলে বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছিল।

ট্রাম্পের নীতিনির্ধারণে অনিশ্চয়তা, ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি এবং গ্রিনল্যান্ড দখলের মতো বক্তব্য নতুন ভূরাজনৈতিক ধাক্কা তৈরি করেছে। এর ফলে ডলার নেমে এসেছে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে।

ইন্টারঅ্যাকটিভ ব্রোকার্সের বাজার বিশ্লেষক স্টিভ সসনিক বলেন, দুর্বল ডলার দুইদিক থেকেই প্রভাব ফেলে। তার ভাষায়, বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য এটি ইতিবাচক, কারণ বিদেশি মুদ্রায় আয়ের ক্ষেত্রে রূপান্তরে তারা সুবিধা পায়। তবে এতে আমদানি করা পণ্যের দাম বাড়ে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে।

বাড়ছে অন্য মুদ্রা ও সোনার দাম

Advertisement

ডলারের দরপতনের ফলে অন্যান্য বৈশ্বিক মুদ্রা শক্তিশালী হয়েছে। সুইস ফ্রাঁ ডলারের বিপরীতে এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছরে ডলারের বিপরীতে ফ্রাঁর মান বেড়েছে তিন শতাংশ, আর ২০২৫ সালে বেড়েছিল ১৪ শতাংশ।

ইউরোরও মানও ডলারের বিপরীতে ১ দশমিক ২-এ পৌঁছে নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছে। গত এক সপ্তাহে ইউরোর মান বেড়েছে প্রায় দুই শতাংশ, যা গত বছরের এপ্রিলের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক উত্থান। ২০২৫ সাল ইউরোর জন্য ছিল ২০১৭ সালের পর সেরা বছর, সে বছর ইউরোর মান বেড়েছিল ১৩ শতাংশ।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পরিচিত সোনার দামও রেকর্ড গড়েছে। প্রতি আউন্স সোনার দাম এরই মধ্যে ৫ হাজার ২০০ ডলার ছাড়িয়েছে। গত সোমবার প্রথমবারের মতো পাঁচ হাজার ডলার ছোঁয়ার পর সোনার এই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত এক বছরের কিছু বেশি সময়ে সোনার দাম বেড়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের ওপর প্রেসিডেন্টের চাপ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বাড়তে থাকা ঋণের বোঝার কারণে ডলারের মান আরও কমতে পারে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ানকেএএ/