নিপাহ ভাইরাসের সম্ভাব্য বিস্তার রোধে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে যাওয়া যাত্রীদের লক্ষ্যভিত্তিক স্ক্রিনিং শুরু করেছে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশ থেকে যাওয়া যাত্রীদের ওপর বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. জুলকেফলি আহমাদ।
Advertisement
তিনি বলেন, দেশের সব আন্তর্জাতিক প্রবেশপথে এসব ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে, যেখানে যাত্রীদের দেহের তাপমাত্রা পরীক্ষা করতে থার্মাল স্ক্যানিং সিস্টেম অবিচ্ছিন্নভাবে চালু রয়েছে, যাতে জ্বরসহ প্রাথমিক উপসর্গ শনাক্ত করা যায়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা ভারত ও বাংলাদেশ থেকে আগত যাত্রীদের ওপর বেশি নজর দিচ্ছি, কারণ এই দেশগুলো উচ্চঝুঁকির তালিকায় রয়েছে। তাই লক্ষ্যভিত্তিক স্ক্রিনিং শুরু করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও জানান, এই যাত্রীদের জন্য কোনো বিশেষ রুট রাখা হয়নি, তবে স্ক্রিনিংয়ের সময় জ্বরের মতো উপসর্গ শনাক্ত হলে তাদের আরও বিস্তারিত মূল্যায়নের জন্য পাঠানো হবে। তিনি বলেন, আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতায় আছি, এবং প্রতিটি প্রবেশপথে স্ক্রিনিং অব্যাহত রয়েছে।
Advertisement
কুয়ালালামপুরে আরএইচবি-আইজেএন হার্ট হেলথ স্ক্রিনিং মোবাইল ইউনিট উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন ড. জুলকেফলি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আরএইচবি ব্যাংকিং গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও গ্রুপ সিইও দাতুক মোহদ রাশিদ মোহাম্মদ ও ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটের (আইজেএন) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রফেসর দাতুক সেরি ড. মোহাম্মদ এজানি মোহদ তাইব।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে স্ক্রিনিং ব্যবস্থা সমন্বয় করে নেওয়া হচ্ছে, যা বর্তমানে বেশিরভাগ দেশের অনুসৃত পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সঙ্গে মালয়েশিয়া ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে, যাতে আন্তর্জাতিকভাবে সবশেষ পরিস্থিতির সঙ্গে মিল রেখে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
এদিকে, আরএইচবি-আইজেএন মোবাইল ইউনিট সম্পর্কে ড. জুলকেফলি বলেন, এটি আরএইচবি ও ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগ, যার মাধ্যমে জনগণের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে হৃদরোগ শনাক্তকরণ সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি জানান, এই অংশীদারিত্বের আওতায় আরএইচবি একটি নতুন ভলভো প্রাইম মুভার সরবরাহ করেছে, আর আইজেএন দিয়েছে অত্যাধুনিক হৃদরোগ নির্ণয় সরঞ্জামে সজ্জিত একটি স্ক্রিনিং ট্রেইলার।এই দুটি উপাদান একত্রিত হয়ে গড়ে উঠেছে আরএইচবি-আইজেএন মোবাইল ইউনিট, যা আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি সরাসরি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবে, বলেন তিনি।
Advertisement
ইসিজি ও ইকোকার্ডিওগ্রাফির মতো সুবিধা এখন বিনামূল্যে দূরবর্তী অঞ্চলের মানুষ পাবে, যারা বিশেষায়িত হাসপাতালে যেতে সমস্যায় পড়তো- এ তথ্যও জানান মন্ত্রী।
ড. জুলকেফলি বলেন, তিনবছর মেয়াদি এই কৌশলগত অংশীদারিত্বের আওতায় মোবাইল ইউনিটটি প্রতিবছর কমপক্ষে ১২টি স্থানে সেবা দেবে এবং এতে ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ উপকৃত হবেন।
সূত্র: নিউ স্ট্রেইটস টাইমস
এসএএইচ