আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। দিন-রাত নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থী সমর্থকরা। প্রার্থীরা নিজেদের প্রচার প্রচারণার পাশাপাশি হ্যাঁ কিংবা না ভোটের প্রচারণাও চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে গণভোট নিয়ে সরকারের তরফ থেকে প্রচার-প্রচারণা চলছে ঢিমেতালে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলসহ চরাঞ্চলগুলোতে এ কার্যক্রম একেবারে নেই বললেই চলে। সাধারণ ভোটাররা সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী থাকলেও ‘গণভোট’ নিয়ে ধারণা নেই তাদের।
Advertisement
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা, ৩০টি ঐকমতভিত্তিক সংস্কার প্রস্তাব এবং অন্যান্য সাংবিধানিক সংশোধনী- এই চারটি প্রশ্নের সমন্বয়ে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোটের সমীকরণই হচ্ছে গণভোট। নির্বাচনের আর বেশি সময় নেই, তাই কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে প্রার্থীরা ভোটের মাঠে ছুটে বেড়াচ্ছেন বিরামহীনভাবে। ভোটারদের মন জয় করতে দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি।
গাইবান্ধার ৫টি আসনের মোট ভোটার ২১ লাখ ৭২ হাজার ৪৯৯ জন। কৃষিনির্ভর এই জেলার বেশিরভাগ মানুষের বাস গ্রামে। এছাড়াও তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা নদীর ১৬৫টি চর দ্বীপচরে চার লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। জেলা উপজেলার সরকারি অফিস ভবনে গণভোটের লম্বা ব্যানার ঝোলানো ও শহরগুলোতে ঢিলেঢালা প্রচার প্রচারণা করতে দেখা গেলেও গ্রামগঞ্জে তেমন চোখে পড়ে না। এছাড়া প্রচারণার অভাবে গণভোটে উত্থাপিত প্রশ্নগুলো সম্পর্কে ভোটারদের কাছে ধারণা দিতে না পারায় জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। অপরদিকে প্রত্যন্ত গ্রাম ও চরাঞ্চলের মানুষ জানেই না গণভোট কী।
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বাজে চিতুলিয়া গ্রামের ময়না বেগম বলেন, ‘শুনছি দুটো ভোট দিতে হবে। একটা এমপি ভোট, আরেকটা কী ভোট সেটা তো কেউ বুজিয়ে দেয় নাই। সে ভোটটা ক্যামনে দিব সেটাওতো বুঝতে পারছি না।’
Advertisement
আরেক ভোটার আব্দুস ছালাম বলেন, ‘বিভিন্ন দলের লোকজন হামারে কাছে শুধু মার্কায় ভোট চাচ্ছেন। এটাই শুধু জানি। হামরা গণভোট জানি না বাপু।’
এদিকে চরাঞ্চলের অনেক মানুষ গণভোট শব্দটির সঙ্গে পরিচিত হলেও এর উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখেন না। কেউ কেউ একে সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলছেন। আবার অনেকে বলছেন, এ বিষয়ে তারা কিছুই শোনেননি।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর গ্রামের আব্দুল হাই বলেন, ‘ভোটের কথা তো জানি, কিন্তু গণভোট কী, কবে হবে- এগুলো কেউ এসে বোঝায়নি।’
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, চরাঞ্চলের ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা ও যোগাযোগ সমস্যার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনের আরও আগে থেকেই সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন ছিল। এসব এলাকায় শিক্ষার হার তুলনামূলক কম হওয়ায় উঠান বৈঠক, মাইকিং কিংবা স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে সরাসরি প্রচারণা চালানো জরুরি বলে তারা মনে করছেন।
Advertisement
এদিকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণার অংশ হিসেবে গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে জাহিদ হাসান জীবনকে মনোনীত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক তিনি গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জাহিদ হাসান জীবন বলেন, ‘গণভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। মানুষ যেন বিষয়টি সঠিকভাবে বুঝতে পারে এবং সচেতনভাবে অংশগ্রহণ করে, সে লক্ষ্যেই আমি মাঠে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে চরাঞ্চলের মানুষের কাছে গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরাই আমার প্রধান অগ্রাধিকার।’
তিনি বলেন, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই গণভোটকে অর্থবহ করে তুলতে পারে। তিনি সকল রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনকে এ বিষয়ে প্রচারণারও আহ্বান জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সময় যত গড়াচ্ছে, কার্যকর উদ্যোগের অভাব ততই স্পষ্ট হচ্ছে। এখনই জোরালো পদক্ষেপ না নিলে চরাঞ্চলের বড় একটি জনগোষ্ঠী গণভোট প্রক্রিয়া থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন থেকে যেতে পারে।
আনোয়ার আল শামীম/এফএ/এমএস