আমাদের সমাজে অনেকদিনের চর্চা বলে যে - সন্তানের জীবনে বাবার ভূমিকা শাসন বা নিয়মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু গবেষণা বলছে, বাবার সঙ্গে সম্পর্কই অনেক ক্ষেত্রে শিশুর আত্মবিশ্বাস ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতার ভিত গড়ে দেয়; আর তা ঘটে নীরবে, প্রতিদিনের সাধারণ আচরণের মধ্য দিয়েই।
Advertisement
শিশু মনোবিদরা বলছেন, বাবা-সন্তান সম্পর্কের প্রভাব কর্তৃত্ব থেকে আসে না, বরং নিরাপত্তাবোধ থেকে আসে। বাবা যখন সন্তানের কথা শোনেন, ভুল করলে শান্তভাবে দিকনির্দেশনা দেন, তখন শিশু শেখে - ভুল মানেই বিপদ নয়, ভুল সামলানো যায়। এই অভিজ্ঞতাই শিশুর ভেতরে আত্মবিশ্বাস তৈরি করে।
বাবারা সাধারণত শিশুদের নতুন কিছু চেষ্টা করতে, ঝুঁকি নিতে বা বাইরে গিয়ে অনুসন্ধান করতে উৎসাহ দেন। নিউরোসায়েন্স অনুযায়ী, এই ‘নিরাপদ ঝুঁকি’ নেওয়ার অভিজ্ঞতা শিশুর মস্তিষ্কে আত্মবিশ্বাস ও কৌতূহলের সঙ্গে যুক্ত স্নায়ু সংযোগগুলোকে শক্তিশালী করে। বাবা পাশে আছেন -এই অনুভূতি শিশুকে সাহসী করে তোলে।
আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও বাবার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানীরা একে বলেন কো-রেগুলেশন। অর্থাৎ শিশু যখন রাগ, ভয় বা হতাশায় ভেঙে পড়ে, তখন একজন স্থির ও সহানুভূতিশীল প্রাপ্তবয়স্কের উপস্থিতি তার স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত হতে শেখায়। বাবার ধারাবাহিক, স্থির উপস্থিতি শিশুর মস্তিষ্কে সেই শান্ত হওয়ার পথগুলোকে আরও মজবুত করে।
Advertisement
অনেক বাবা-মা ভাবেন, বড় কিছু না করলে সন্তানের ওপর প্রভাব পড়ে না। কিন্তু গবেষণা বলছে, ছোট ছোট বিষয় - যেমন মন দিয়ে শোনা, আগ্রহ দেখানো, পাশে থাকা - এসবই শিশুর মস্তিষ্কে শক্ত বার্তা পাঠায়। এতে শিশু নিজের ওপর আস্থা রাখতে শেখে এবং আবেগের ভারসাম্য গড়ে ওঠে।
এর ফলাফল হিসেবে, বাবার সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক থাকা শিশুরা বড় হয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি আত্মবিশ্বাসী, মানসিকভাবে স্থিতিশীল এবং জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম হয়। বাবা হওয়া মানে শুধু আর্থিক দায়িত্ব নয়, এটি সন্তানের ভেতরের শক্তি গড়ে দেওয়ার একটি নীরব ও গভীর প্রক্রিয়া।
সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি সেন্টার অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড, জার্নাল অব চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট, ন্যাশনাল সায়েন্টিফিক কাউন্সিল অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড
এএমপি/এএসএম
Advertisement