২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৭ মাসে মোট ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১৫৮ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৭ হাজার ৮২ জন।
Advertisement
এসব সহিংসতার মধ্যে ৫৫০টিতে (৯১.৭ শতাংশ) বিএনপি সম্পৃক্ত। ১২৪টিতে অর্থাৎ ২০.৭ শতাংশ ঘটনায় আওয়ামী লীগ, ৭.৭ শতাংশ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী এবং ১.২ শতাংশ ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম্পৃক্ততা রয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর একটি গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে সংবাদ সম্মেলনে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করে টিআইবি।
Advertisement
টিআইবি গবেষণা প্রতিবেদনে আরও জানায়, সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের দখলে থাকা প্রতিষ্ঠান ও কার্যক্রমের দখল ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ও সংঘাত- পরিবহন টার্মিনাল ও স্ট্যান্ড থেকে চাঁদাবাজি; সিলেটের কোয়ারি ও নদ-নদী থেকে পাথর লুটপাট; সেতু, বাজার, ঘাট, বালু মহাল ও জল মহাল ইত্যাদি ইজারা নিয়ন্ত্রণ; এসব ক্ষেত্রে দলগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর ছিল না। কর্মীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি দলগুলো।
১৭ মাসে সংঘটিত রাজনৈতিক সহিংসতায় রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পৃক্ততা/সূত্র: টিআইবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরবর্তী ৩৬ দিনের মধ্যেই দেশে অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুনশেরপুরে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহতশেরপুরে জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনায় মামলা, আসামি ৭৩৪লালমনিরহাটে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ২০
Advertisement
প্রতিবেদনে বলা হয়, থানা থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া এবং নতুন করে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ায় সহিংসতার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী মোট জনবলের মাত্র ৯ থেকে ১০ শতাংশ পুলিশ সদস্য হওয়ায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় বড় ঘাটতি রয়েছে।
২০২৫ সালে সংখ্যালঘুদের ওপর ৫০টির বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ডিপফেক ও ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার হুমকিকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসএম/ইএ