নির্বাচন মানেই সাংবাদিকদের জন্য টানা চাপ, অনিশ্চয়তা আর মানসিক ক্লান্তির সময়। ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খবর সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দেশের সাংবাদিকেরা।
Advertisement
খবরের পেছনে ছোটা, তথ্য যাচাই, নিরাপত্তা ঝুঁকি আর সময়ের চাপ, সব মিলিয়ে এই সময়টায় সাংবাদিকদের মানসিক-স্বাস্থ্যের বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে যায়। অথচ সুস্থ মন ছাড়া দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা সম্ভব নয়।
চাপ অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে কীভাবে বুঝবেননির্বাচনী সাংবাদিকতায় মানসিক চাপ নতুন কিছু নয়। দীর্ঘ সময় কাজ, ঘুমের অভাব, অনলাইন ও অফলাইন হুমকি, রিপোর্টে ভুলের শঙ্কা, সব মিলিয়ে সাংবাদিকদের উদ্বিগ্ন, বিরক্ত, মনোযোগ ছুটে যাওয়া বা সারাক্ষণ সতর্কতার ভেতর থাকতে হয়। অনেক সময় নিজের অজান্তেই শরীর ও মনের ওপর এই চাপ জমতে থাকে।
বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের মানসিক স্বাস্থ্য ও সাংবাদিকতা বিষয়ক সচেতনতা উপকরণে বলা হয়েছে, সাংবাদিকরাও মানুষ, তাদের ভয়, ক্লান্তি ও আবেগ থাকা স্বাভাবিক। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় মানসিক চাপ অনুভব করা কোনো দুর্বলতা নয়। বরং সেটি স্বাভাবিক মানবিক প্রতিক্রিয়া। সমস্যাটা শুরু হয় তখনই, যখন এই চাপকে অস্বীকার করা হয় বা সাহায্য চাইতে সংকোচ বোধ করা হয়।
Advertisement
নির্বাচনী দায়িত্বের সময় কিছু সাধারণ লক্ষণের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি –
>> ঘুম ঠিকমতো না হওয়া>> মাথাব্যথা বা বুক ধড়ফড় করা>> অকারণে রাগ বা বিরক্তি>> সারাক্ষণ অজানা ভয় কাজ করা>> কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা।
এসব লক্ষণ দেখা দিলে সেটিকে ‘স্বাভাবিক চাপ’ বলে এড়িয়ে না গিয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
এগুলো হলে যা করবেনএই সময়টায় নিজের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় কিছু ছোট কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেন সাংবাদিকরা –
Advertisement
>> নিয়মিত বিরতি নেওয়া>> সহকর্মীদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলা>> দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া >> প্রয়োজন হলে পেশাদার কাউন্সেলরের সহায়তা নেওয়া
বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন জোর দিয়ে বলছে, সহকর্মী সমর্থন ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ মানসিক সুরক্ষার অন্যতম বড় হাতিয়ার।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিজেকে মনে করিয়ে দেওয়া যে, খবরের চেয়েও নিজের জীবন ও সুস্থতা বেশি মূল্যবান। একটি নির্বাচন আসে-যায়, কিন্তু মানসিক ক্ষত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা মানে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিও দায়িত্বশীল থাকা।
২০২৬ সালের নির্বাচন কাভার করতে যাওয়ার আগে ও চলাকালীন সাংবাদিকদের এই সচেতনতা শুধু ব্যক্তিগত নয়, পেশাগত মান রক্ষার ক্ষেত্রেও জরুরি। সুস্থ মন থাকলেই সত্য, সংবেদনশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ সংবাদ পরিবেশন সম্ভব।
সূত্র: বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন
এএমপি/আরএমডি/এএসএম