লাইফস্টাইল

পুরো পরিবার বাদে শুধু সঙ্গীকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া কেন জরুরি

ব্যস্ত জীবন, অফিস, পরিবার, সন্তান - সব মিলিয়ে অনেক দম্পতিরই সময় কাটে রুটিনের ভেতর। একসঙ্গে থাকলেও যেন একান্ত সময়টাই আর পাওয়া হয় না। তাই ভেবে দেখুন তো - শেষ কবে আপনি শুধু সঙ্গীকে নিয়ে, কোনো পারিবারিক দায়িত্ব ছাড়া কোথাও ঘুরতে গিয়েছিলেন?

Advertisement

সম্পর্কের জন্য একান্ত সময় কেন দরকার

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পর্ককে সতেজ রাখতে শুধু একসঙ্গে থাকা যথেষ্ট নয়, একান্ত সময় বা কোয়ালিটি টাইমও দরকার।

দ্য গটম্যান ইন্সটিটিউটের গবেষণা অনুযায়ী, নিয়মিত একান্ত সময় কাটানো দম্পতিদের মধ্যে ইমোশনাল কানেকশন শক্তিশালী করে।

১. দৈনন্দিন চাপ থেকে মুক্তি

পরিবারের সঙ্গে থাকলে দায়িত্ব ও ব্যস্ততা সবসময় মাথায় থাকে - শিশুদের দেখাশোনা, আত্মীয়দের খেয়াল রাখা, ঘরের কাজ।

Advertisement

কিন্তু দুজন মিলে কোথাও ঘুরতে গেলে সেই চাপ কিছুটা কমে যায়। এতে মন হালকা হয়, কথা বলা সহজ হয়, আর সম্পর্কের মধ্যে নতুন স্বস্তি তৈরি হয়।

২. আবার নতুন করে চেনা

একই ছাদের নিচে থাকলেও অনেক সময় আমরা সঙ্গীকে নতুন করে জানার সুযোগ পাই না। তাই একসঙ্গে ভ্রমণ বা ছোট্ট কোথাও বেড়াতে গেলে নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি হয়, একে অপরের পছন্দ-অপছন্দ বোঝা যায় ও সম্পর্কের মধ্যে নতুনত্ব আসে।

৩. রোমান্টিকতা ফিরে আসে

সময় যত যায়, সম্পর্ক অনেক সময় দায়িত্বে ভরপুর হয়ে পড়ে। একান্তে কোথাও ঘুরতে যাওয়া সেই আগের হারিয়ে যাওয়া রোমান্টিকতাকে ফিরিয়ে আনতে পারে। ছোট্ট ডিনার, একসঙ্গে হাঁটা বা নিরিবিলি আড্ডা - এসব মুহূর্তই সম্পর্ককে গভীর করে।

৪. ভুল বোঝাবুঝি কমে

দৈনন্দিন ব্যস্ততায় অনেক কথা জমে থাকে, যা থেকে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। একান্ত সময় পেলে সেসব কথা খোলামেলা বলা যায়। এতে সম্পর্ক আরও স্বচ্ছ ও স্বস্তিদায়ক হয়।

Advertisement

কতটা বড় পরিকল্পনা দরকার?

ঘুরতে যাওয়া মানেই দূরে কোথাও যেতে হবে, এমন নয়। শহরের কাছাকাছি কোনো রিসোর্ট, একদিনের ছোট্ট ট্রিপ বা একসঙ্গে একটি নিরিবিলি ক্যাফেতে সময় কাটানোও হতে পারে কোয়ালিটি টাইম। মূল বিষয় হলো - সময়টা যেন শুধু দুজনের জন্য হয়।

সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে বড় বড় আয়োজন নয়, দরকার ছোট ছোট সচেতনতা। পরিবারের বাইরে সঙ্গীর সঙ্গে কাটানো এই একান্ত সময়ই অনেক সময় সম্পর্ককে নতুন করে প্রাণ দেয়। তাই ব্যস্ততার মাঝেও একটু সময় বের করুন - নিজেদের জন্য, সম্পর্কের জন্য।

সূত্র: দ্য গটম্যান ইনস্টিটিউট, আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং, জার্নাল অব সোশ্যাল অ্যান্ড পার্সোনাল রিলেশনশিপস

এএমপি/এমএস