অর্থনীতি

দাম বেড়েছে ২৩৯ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের, কমেছে ৯০টির

সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার (১৫ এপ্রিল) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। এতে বেড়েছে মূল্যসূচক। সেই সঙ্গে ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।

Advertisement

এর আগে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস দাম বাড়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের দাপট দেখায় বিমা খাতের কোম্পানিগুলো। এতে মূল্যসূচক ও লেনদেনের পরিমাণ বাড়ে। তবে দ্বিতীয় কার্যদিবসে দরপতন হয়। তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখের ছুটি থাকায় শেয়ারবাজারে লেনদেন হয়নি।

এমন পরিস্থিতিতে বুধবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচকে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। ফলে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২৩৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৯০টির। আর ৬৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

Advertisement

ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১২৩টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৫২টির দাম কমেছে এবং ৩০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৫৮টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৮টির এবং ৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৫৮টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২০টির এবং ২৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৮টির দাম বেড়েছে এবং ২টির দাম কমেছে ও ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৫৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৮৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৮ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬৬ পয়েন্টে উঠে এসেছে।

মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৮৩৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭৯৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৪৩ কোটি ৬ লাখ টাকা।

Advertisement

এই লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ৪ লাখ টাকার। ২০ কোটি ২২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে একমি পেস্টিসাইড।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- লাভেলো আইসক্রিম, মীর আক্তার হোসেন লিমিটেড, গোল্ডেন সন, শাহজিবাজার পাওয়ার, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, বিবিএস কেবলস এবং পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ২৩ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৪টির এবং ৩১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

এমএএস/বিএ