জ্বালানি সাশ্রয় ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনি-সোম-বুধবার অফলাইনে বা সশরীরে ক্লাস চলবে। আর বাকি দিনগুলো চলবে অনলাইন।
Advertisement
এই বাস্তবতায় অনেক শিক্ষার্থী আবারও বাসা থেকে অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হতে যাচ্ছে। কিন্তু অভিভাবকদের একটি সাধারণ দুশ্চিন্তা - অনলাইন ক্লাসে সন্তান স্ক্রিনের সামনে থাকলেও মনোযোগ থাকে না। ফলে শেখার ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে, যা আগেও অভিভাবকরা অনুভব করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে শুধু ক্লাসে বসানোই যথেষ্ট নয়, মা-বাবার সক্রিয় ভূমিকা জরুরি।
অনলাইন ক্লাসের দিন সন্তানের মনোযোগ ধরে রাখতে যা করবেন -
Advertisement
অনেক সময় তাড়াহুড়োয় ক্লাসে বসলে শিশুর মনোযোগ ঠিকমতো তৈরি হয় না। তাই আগে থেকেই বই, খাতা, ডিভাইস প্রস্তুত রাখুন। এতে তার মনে ‘ক্লাস শুরু হচ্ছে’ এমন মানসিক প্রস্তুতি তৈরি হয়।
২. নির্দিষ্ট রুটিন সেট করুনবাসায় থাকলেও যেন স্কুলের মতো সময় মেনে চলে - এটা নিশ্চিত করুন। নির্দিষ্ট সময়েই ঘুম, খাওয়া, ক্লাস - এই রুটিন শিশুর মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।
৩. ক্লাসের সময় পাশে থাকুন, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করবেন নাছোটদের ক্ষেত্রে পুরো সময় নজর রাখা দরকার। তবে অতিরিক্ত চাপ দিলে উল্টো বিরক্তি তৈরি হতে পারে। প্রয়োজন হলে হালকা গাইড করুন। আশেপাশে থাকুন।
৪. বিভ্রান্তির উৎস কমানটিভি, খেলনা, মোবাইল নোটিফিকেশন - এসব বন্ধ রাখুন। অনলাইন ক্লাস চলাকালে একাধিক উদ্দীপনা থাকলে মনোযোগ ভেঙে যায়।
Advertisement
দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে বসে থাকা শিশুদের জন্য কঠিন। ক্লাস শেষে ১০-১৫ মিনিট বিরতি দিন, যাতে সে মানসিকভাবে রিফ্রেশ হতে পারে।
৬. শেখার বিষয়ে আগ্রহ তৈরি করুনক্লাস শেষে তাকে জিজ্ঞেস করুন - আজ কী শিখলে? কোনো মজার বিষয় ছিল কি? এতে সে শেখার প্রতি আগ্রহী হয় এবং মনোযোগও বাড়ে।
৭. স্ক্রিনের বাইরে সময় নিশ্চিত করুনশুধু ক্লাস নয়, বাকি সময় যেন খেলাধুলা, বই পড়া বা পরিবারের সঙ্গে কাটে। এতে মানসিক ভারসাম্য বজায় থাকে।
অনলাইন ক্লাস কার্যকর করতে হলে শুধু প্রযুক্তি নয়, বরং পরিবেশ ও অভ্যাস - দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাসায় পড়াশোনার পরিবেশ না থাকলে শিশু সহজেই মনোযোগ হারিয়ে ফেলে।
মনে রাখতে হবে, অনলাইন ক্লাসে সফলতা শুধু শিক্ষকের ওপর নির্ভর করে না, অভিভাবকের সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ। একটু সচেতনতা আর নিয়ম মেনে চললেই বাসার পরিবেশেও শেখা কার্যকর ও আনন্দময় হতে পারে।
সূত্র: আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস, ইউনিসেফ, হার্ভার্ড সেন্টার অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড
এএমপি/এমএস