দেশে হাম পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, হামের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে সময় লাগবে। টিকা দেওয়ার পর শিশুদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।
Advertisement
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, গত ৫ এপ্রিল থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং তা এখনো চলমান। তবে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশের একটি অংশের শিশু টিকার আওতার বাইরে ছিল, যা আগের একটি ব্যর্থতার ফল। এরপরও শিশুদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
চিকিৎসাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আক্রান্ত রোগীদের সর্বোচ্চ সহায়তা দিতে হাসপাতালগুলোতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকায়, বিশেষ করে যখন একই ধরনের সেবা—যেমন আইসিইউ—অনেক রোগীর প্রয়োজন হয়, তখন পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। তবুও সরকার পরিস্থিতি কার্যকরভাবে মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে তিনি জানান।
Advertisement
ব্যর্থতার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রত্যেকটা নেগেটিভ ঘটনা আমরা সিরিয়াসলি ক্ষতিয়ে দেখি। একটা এয়ারপ্লেন ক্র্যাশ হলে তার কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা হয়, উদ্দেশ্য থাকে পরবর্তী ফ্লাইট যেন আরও নিরাপদ হয়। এই বিষয়টাও আমরা সিরিয়াসলি ক্ষতিয়ে দেখছি।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর একটা মন্তব্য কেউ কেউ সমালোচনা করেছেন, সমালোচনা করতেও পারেন কেউ। কিন্তু আমার মনে হয় তার ফিলিংটা বুঝতে পারি যে এতগুলো শিশু মারা যাচ্ছে, তিনি এটা সহ্য করতে পারেননি। এটা পারা যায় না। সো আমরা অবশ্যই এগুলো প্রত্যেকটা ক্ষতিয়ে দেখবো।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, প্রতিরোধযোগ্য রোগে মৃত্যু কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি উল্লেখ করেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির কারণে এমন অনেক রোগ আছে যেগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব, ফলে এসব রোগে কারও মৃত্যুকে মেনে নেওয়া যায় না। কিছু রোগ হঠাৎ করে ধরা পড়তে পারে—যেমন ক্যানসার, যা আগে থেকে জানা যায় না। তবে হাম-এর মতো রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হওয়ায় এ ধরনের রোগে মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অগ্রহণযোগ্য। এ বিষয়ে দায় এড়ানো যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা বা প্রিভেন্টিভ মেডিসিনের ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। টিকাদান কার্যক্রমও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা যে কোনো মূল্যে নিশ্চিত করা হবে। এক্ষেত্রে কারা ব্যর্থ হয়েছে তা চিহ্নিত করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আর সৃষ্টি না হয়।
Advertisement
এমএএস/এমএএইচ/