প্রশ্ন: নিজের পরিবারের জন্য কয়েক মাসের বা এক বছরের খাদ্যসামগ্রী কিনে ঘরে জমা করে রাখা কি নাজায়েজ? এটা কি মজুদদারি গণ্য হবে?
Advertisement
উত্তর: বাজারে যখন স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করে অর্থাৎ কোনো সংকট না থাকে, তখন নিজের ও পরিবারের জন্য কয়েক মাস বা এক বছরের খাদ্যসামগ্রী কিনে রাখা ইসলামে নিষিদ্ধ নয়। বর্ণিত রয়েছে, নবীজি (সা.) অনেক সময় তার পরিবারকে এক বছরের খাদ্যসামগ্রী একসাথে কিনে দিয়ে দিতেন। তাই কেউ চাইলে পরিবারের জন্য কয়েক মাস বা এক বছরের খাদ্যসামগ্রী কিনে রাখতে পারে এটা অবৈধ মজুদদারি গণ্য হবে না এবং গুনাহের কারণ হবে না।
ইসলামের দৃষ্টিতে অবৈধ মজুদদারি হলো বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে খাদ্য-শস্য মজুত করা অথবা বাজারে সংকট সৃষ্টি হয়, দাম বেড়ে যায়, অন্যদের কষ্ট ও ক্ষতির কারণ হয় এই পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী মজুত করে রাখা। বিভিন্ন হাদিসে এ ধরনের মজুদদারির ব্যাপারে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে।
আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি (খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী) মজুত করে সে গুনাহগার। (সহিহ মুসলিম: ১৬০৫)
Advertisement
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, কেউ যদি খাদ্য গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, আল্লাহ তাকে দুরারোগ্য ব্যাধি ও দারিদ্র্য দিয়ে শাস্তি দেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ২২৩৮)
ফকিহদের মতে এ হাদিসগুলো বাজারে সংকট সৃষ্টি হয়, মানুষ অভাব অনটনের শিকার হয় এবং দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক বেড়ে যায় -এ রকম মজুতকরণের ক্ষেত্রে। এ ধরনের মজুতকরণ নাজায়েজ। সরকারের কর্তব্য এ ধরনের মজুতকরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যেও খাদ্যশস্য গুদামজাত বা মজুত করার ব্যপারটি যদি সাধারণ পর্যায়ের হয়, কোনো শস্য বেশি ফলনের সময় গুদামজাত করে সাধারণভাবে দাম বেড়ে যাওয়ার পর বিক্রি করা হয় এবং সে কারণে বাজারে ওই পণ্যের সংকট সৃষ্টি না হয়, মানুষ কষ্টে না পড়ে এবং অস্বাভাবিক দাম বেড়ে না যায়, তাহলে তা নাজায়েজ নয়।
যেমন কেউ যদি ধানের মৌসুমে বাজার প্রভাবিত হয় না এই পরিমাণ ধান কিনে মজুত করে রাখে, এরপর স্বাভাবিকভাবে বাজারে ধানের দাম বেড়ে গেলে বিক্রি করে, তাহলে তা নিষিদ্ধ ‘ইহতিকার’ তথা মজুদকরণের আওতায় পড়বে না।ওএফএফ
Advertisement