খেলাধুলা

বিসিবির সবচেয়ে বড় দায়িত্ব মনে করিয়ে দিলেন রফিক

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়মিত খেলা হচ্ছে মাত্র ৩-৪টি মাঠে। অনেকগুলো মাঠে অনেকদিন ধরেই শুধু ঘরোয়া লিগের কিছু ম্যাচ হয়। সেগুলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুতও না। এছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেটেও মাঠের সংকট আছে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ থেকে শুরু করে প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট আয়োজন করতে বেগ পেয়ে হয় খোদ বিসিবিকে। এছাড়া জেলা ক্রিকেটেও মাঠ সংকট প্রতুল। বিসিবির স্পিন কোচ মোহাম্মদ রফিক এবার পর্যাপ্ত মাঠ না থাক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

Advertisement

তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, মাঠ না থাকলে খেলোয়াড় তৈরি হওয়া সম্ভব নয় এবং এ বিষয়ে বোর্ডকে বড় দায়িত্ব নিতে হবে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখে রাজধানীর বনানিতে বাচ্চাদের এক স্কুল ক্রিকেট ম্যাচে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রফিক। সেখানে মাঠ সংকটকে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে তুলে ধরে রফিক বলেন, ‘আপনি যদি ক্রিকেটটা চান ক্রিকেটের জন্য মাঠ লাগবে। এটা একটা সমস্যা। তারপর পাড়া মহল্লা ভিত্তিক ঢাকার পুরান ঢাকার অলিতে গলিতে যেসব মাঠ আছে যে দেখেন ক্রিকেট কিন্তু খেলা হচ্ছে। এরকম বসে থাকে না কেউ। টেনিস বলে খেলা চলে। কিন্তু তারপরও আমি বলবো যে এই বাচ্চাদের তো আপনি একটা টার্গেট করছেন এই বাচ্চারা তো আজকে মনে হয় যদি এখানে ২০০ বাচ্চা খেলে ২০০ বাচ্চা দিয়ে যদি ১০ টা প্লেয়ার তৈরি করতে পারেন। এদেরকে ঐ সুযোগটা দিতে হবে। মাঠ না থাকলে কিন্তু আপনি প্লেয়ার খুঁজে পাবেন না।’

রফিক বলেন, মাঠ সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা এবং পরিকল্পিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে খেলোয়াড় সংকট আরও বাড়বে। তিনি বলেন, ‘যদি ৪০ বছর আগের কথা বলি বা ৩৫ বছর, তখন থেকে এই মাঠের সমস্যা ছিল। আগে যেমন আরেকটা মাঠ ছিল আবাহনী মাঠটা ওটাও তো কিন্তু শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু এখন বিসিবির সবচেয়ে বড় হলো দায়িত্বটা নিতে হবে যে এতো পয়সা আছে আলহামদুলিল্লাহ, আপনার মাঠ তৈরি করতে হবে। মাঠ কিনতে হবে, জায়গা কিনে নিজস্ব মতো একটা মাঠ বানাতে হবে। আপনি যদি মাঠ না থাকে, আপনি মাঠে যদি মাঠ না থাকলে কিন্তু আপনি প্লেয়ার হবে না। আর প্লেয়ার যখন হবে মাঠ দরকার পড়বে। মাঠ কিন্তু একটা আমি বলবো যে মাঠ কিন্তু একটা মেশিন প্লেয়ার তৈরি করার। আপনি যদি মাঠ না থাকে আপনি প্লেয়ার পাবেন না।’

Advertisement

তিনি কেরানীগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় সম্ভাবনার কথাও বলেন রফিক, ‘যখন ফারুক ভাই প্রেসিডেন্ট ছিল কিছু জায়গা দেখিয়েছিলাম কেরানীগঞ্জে হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামের পাশে প্রচুর জায়গা আছে। ঐখানে কিন্তু একটা নতুন শহর হচ্ছে। ঝিল-মিল হচ্ছে এর পাশে অনেক প্রজেক্টের বিল্ডিং উঠতেছে। আমি মনে করি যে এইসব জায়গাগুলো সস্তায় পাবে বা আরও অন্যান্য জায়গা যে খুঁজে যদি মাঠের জন্য প্রিপারেশন টা নেয় আমি মনে করি যে এটা ভবিষ্যতের জন্য ভালো হবে। ভবিষ্যতে মাঠ না থাকলে প্লেয়ার কোথায় পাবে? তো আপনার মাঠ না থাকলে প্লেয়ার পাবেন কোথা থেকে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আর ঐ মাঠের পাশেই আরও অনেক জায়গা আছে। তারপর খাস জমিও অনেক আছে। ওখানে যে ইউএনও আছে আমি তার সাথে আলাপ করছি। ফারুক ভাই কিন্তু কয়েকবার পাঠিয়েছিল বাতেন ভাইকে, ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে কয়েকবার দেখে আসছে বলছে, একদম পারফেক্ট মাঠ আছে। এখানে আমরা দুই তিনটা মাঠ বানাতে পারবো আর কিছু বিল্ডিং করবো যেটা বাচ্চারা একাডেমিতে থাকবে। আর এই রাস্তাঘাট কিন্তু ৬০ ফিট হয়েছে। আমি মনে করি আলহামদুলিল্লাহ এখনও যে সময় আছে এখানে যদি বিসিবি মাঠ করে বোধহয় এটা অত টাকা লাগবে না, বিঘা ১০-১১ লাখ টাকা হবে। এই ঢাকা থেকে আপনার ২০-২৫ মিনিট লাগে যেতে। আমি মনে করি যে এখনই যদি এই উদ্যোগটা নেয় ইনশাআল্লাহ দুই বছরের ভিতরে দুই তিনটা মাঠ রেডি হবে।’

এসকেডি/আইএন

Advertisement