দেশজুড়ে

বৈধ চেয়ারম্যান অচল, ট্রাস্টি বোর্ডের বিভক্তিতে সংকটে বিশ্ববিদ্যালয়

• সিন্ডিকেটের দখলে বিশ্ববিদ্যালয়• সই জালিয়াতি করে নিজেকে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দাবির অভিযোগ• আদালতে মামলা করে গ্রেফতার ট্রাস্টি সদস্য পবিত্র কুমার সরকার • বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের রিপোর্টে ট্রাস্টি বোর্ডে বিভক্তি ও অনিয়মের তথ্য• বিতর্কিতদের বোর্ড কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ আদালতের

Advertisement

খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ঘিরে থামছেই না অস্থিরতা। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক প্রভাব এবং একটি প্রভাবশালী চক্রের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসন। বৈধ চেয়ারম্যান থাকা সত্ত্বেও দায়িত্ব পালন করতে না পারা, সই জালিয়াতির অভিযোগ, আর্থিক অনিয়ম ও আদালত পর্যন্ত গড়ানো বিরোধ— সব মিলিয়ে সংকটের গভীরতায় পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১২ সালে ১৭ জন ট্রাস্টি সদস্যের উদ্যোগে খুলনা নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু ১৪ বছরে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শর্ত পূরণ করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা। বিগত দিনে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ হয়নি। ৫ আগস্টে পর ট্রাস্টি বোর্ডে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার স্বার্থে ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট বোর্ডের ৬৬তম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সিরাজুল হক চৌধুরীকে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়। পরবর্তী সময়ে বোর্ড পরিচালনার স্বার্থে ট্রাস্টি বোর্ডের শূন্য তিনটি পদে মো. মিজানুর রহমান, হাফিজুর রহমান এবং ইউনিভার্সিটির অ্যালামনাই সদস্য মো. আজিজুল হক অন্তর্ভুক্ত হন।

নিয়ম অনুযায়ী ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হতে যৌথ মূলধনী কোম্পানি থেকে নিবন্ধন প্রয়োজন হয়। কিন্তু আওয়ামীপন্থি সিন্ডিকেটের কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি। অন্যদিকে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সিরাজুল হক চৌধুরী ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় ব্যয়ের অডিট করাতে চাইলে গণ্ডগোল বাধে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্টের পর ১৭ সদস্যের ট্রাস্টি বোর্ডের মধ্যে ছয়জন ট্রাস্টি আত্মগোপনে চলে যান। তার মধ্যে রয়েছেন খুলনার সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, বাগেরহাট-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুন নাহার, খুলনা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম কামাল হোসেন, এস এম কামাল হোসেনের স্ত্রী মিসেস নূরানী আক্তার, মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা খন্দকার বজলুল হক। পালিয়ে থাকলেও তাদের অদৃশ্য ইন্ধনে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়। এরমধ্যে গত বছরের ২১ মে ট্রাস্টি বোর্ডের বৈধ চেয়ারম্যানের সই নকল করে সভা ডেকে নিজেকে চেয়ারম্যান দাবি করেন মিজানুর রহমান।

Advertisement

সূত্র আরও জানায়, আওয়ামী লীগের সময় হওয়া লুটপাট ঢাকতে আওয়ামীপন্থি একটি চক্র নতুন সদস্য মিজানুর রহমান ও হাফিজুর রহমানকে নিজেদের দলে নিয়ে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন। এক পর্যায়ে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক চৌধুরী দেশে না থাকার সুযোগে তার সই জাল করে ২০২৪ সালের ২১ মে ট্রাস্টি বোর্ডের একটি সভা আহ্বান করে অনিবন্ধিত সদস্য মিজানুর রহমান নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন এবং সৈয়দ হাফিজুর রহমানকে করা হয় সদস্য সচিব। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শেখ মাহরুফুর রহমানের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত ভিসি কানাই লাল সরকার, সহযোগী অধ্যাপক ও বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন ফারজানা আক্তার এবং বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের পরিচালক ড. মো. রউফ বিশ্বাস যোগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পুরো নিজেদের অনুকূলে নিয়ে নেন।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল, শেখ হাসিনার উপদেষ্টা খন্দকার বজলুল হক চৌধুরী ও তার স্ত্রী লুৎফার, এস এম কামালের বোন জামাই রেজাউল আলম এবং নাহিদ নেওয়াজের নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয় অবৈধ প্রক্রিয়ায় পরিচালনা করছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শেখ মাহরুফুর রহমান। মূলত খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেকের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন মাহরুফুর রহমান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লার সুপারিশে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ কানাই লাল সরকারকে ট্রেজারার হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. শেখ মো. এনায়েতুল বাবর ২০২৫ সালের জুন মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাহরুফুর সিন্ডিকেটের চাপে পদত্যাগ করেন। পরে কানাই লাল সরকার ভারপ্রাপ্ত ভিসির পদে বসেন। কানাই লাল সরকার একজন বেসরকারি কলেজ শিক্ষক। তার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ও ট্রেজারার হিসাবে নিয়োগ পাওয়ার কথা না থাকলেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পান। তার নিয়োগপত্রে অধ্যাপক ছিল না কিন্তু এখন তিনি নামের আগে অধ্যাপক টাইটেল ব্যবহার করছেন।

কর্মকর্তারা বলেন, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়কে মাহরুফ সিন্ডিকেট এক ভয়ংকর ক্ষতির সামনে দাঁড় করিয়ে নিজেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ, নির্মাণ কাজ এবং বিভিন্ন ব্যয় বাবদ অর্থ আত্মসাৎ করছে মাহরুফুর রহমানের সিন্ডিকেট। স্বঘোষিত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানকে দিয়ে ফারজানা আক্তার ও মাহরুফুর রহমান কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সম্প্রতি অবৈধ কাজে বাধা প্রদানকারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ জন শিক্ষক এবং আট জন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মাহরুফুর রহমানের পরামর্শে।

Advertisement

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের লিবারেল আর্টস অ্যান্ড হিউম্যান সায়েন্সেস অনুষদের ডিন শেখ মাহরুফুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি শিক্ষকতা ব্যতীত অন্য কিছুর সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। কাজের জন্য অনেকের সঙ্গে সমন্বয় করতে হয়, তবে আমি কাউকে কোনো সহযোগিতা করছি না।

সহযোগী অধ্যাপক ও বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন ফারজানা আক্তার বলেন, আমি খুব ভোকাল। সবাই আমাকে সেভাবে জানে। আমি কারো সঙ্গে কোনো কিছুতে জড়িত না। তবে হ্যাঁ, ২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করার পর ট্রাস্টি বোর্ডে আমি যাদের পেয়েছি, তাদের নির্দেশে কাজ করেছি। এটা ঠিক। তবে রউফ স্যার ভদ্র মানুষ এবং মাহরুফুর অত্যন্ত ভালো একজন মানুষ। আমরা একই অনুষদের শিক্ষক বলে আমাদের মধ্যে একটা ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি কোনো কিছুর সঙ্গে সম্পৃক্ত না।

ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য রেজাউল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মুঠোফোনে তাকে পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের দেওয়া প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০, ট্রাস্ট অ্যাক্ট ১৮৮২ এবং সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট ১৮৬০ অনুযায়ী ২০১৩ সালে জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসে নিবন্ধিত ১৭ সদস্য বিশিষ্ট বোর্ড অব ট্রাস্টিজ আইনসম্মত বলে কমিশন নিশ্চিত হয়েছে। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর ১৭ জন ট্রাস্টির মধ্যে ৭ জন বিদেশে অবস্থান করছেন এবং ২ জনের সন্ধান না থাকায় এবং অবশিষ্ট ৮ জন ট্রাস্টির মধ্যে বিভক্তি রয়েছে। এদের মধ্যে ৩ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া চেয়ারম্যান দাবিদার মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনা সূত্রে গত বছরের ১২ নভেম্বর কমিশনের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তড়িঘড়ি করে ওই বছরের ১৮ নভেম্বর স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ শুরু করেন চেয়ারম্যান দাবিদার মিজানুর রহমান। এরপর বিওটি (বোর্ড অব ট্রাস্টি) সদস্য পবিত্র কুমার সরকার অবৈধভাবে থাকা মিজানুর রহমানের কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে মামলা করলে উচ্চ আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। উচ্চ আদালত মিজানুর রহমান, হাফিজুর রহমান এবং আজিজুল ইসলামকে বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য হিসেবে কাজ করা থেকে বিরত থাকার অস্থায়ী নির্দেশ দেন।

এদিকে উচ্চ আদালতে পবিত্র কুমারের দায়ের করা মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে আগামী ১৬ এপ্রিল। এরই মধ্যে গত শনিবার (৪ এপ্রিল) পবিত্র কুমারকে গ্রেফতার করেছে খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

এ ঘটনায় পবিত্র কুমার সরকারের স্ত্রী বিউটি মন্ডল বলেন, ‘শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাড়িতে ঢুকে পবিত্রকে ডিবির লোকজন তুলে নিয়ে যায়। ডিবি অফিস থেকে আমাকে বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মামলা তুলে নিলে আর কোনো ঝামেলা হবে না। পরদিন জানতে পারি পবিত্রকে আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য দেখিয়ে একটি ভাঙচুর মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে ডিবি পুলিশ।’

অন্যদিকে ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ দায়ের করা ভাঙচুর মামলার বাদী ফাতেমা তুজ জোহরা লিন্ডা বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত সাত আসামির সবাই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। এর মধ্যে পবিত্র সরকারের নাম নেই। আর এই নামে কাউকে আমি চিনিও না। তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর কারণ ডিবি পুলিশ বলতে পারবে।

তবে খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক তৈমুর ইসলাম বলেন, ‘তিনি (পবিত্র কুমার) আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য। ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। এজন্য তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক চৌধুরি বলেন, ইউজিসি, আইন এবং আদালত বলছে আমি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান। কিন্তু আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে চলমান সবকিছু এখন অবৈধ। এমনভাবে চললে বিশ্ববিদ্যালয়তো বন্ধ হয়ে যাবে। হাজার হাজার শিক্ষার্থী বঞ্চিত হবেন। খুলনাবাসী বঞ্চিত হবেন।

তিনি আরও বলেন, আমি খুলনার স্থানীয় কোনো মানুষ না। আমি ক্ষমতাবান কেউ না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। আমি চাই বিশ্ববিদ্যালয়টি চলমান থাকুক। আমি বিএনপি করেও খুলনার একজন বিএনপির শীর্ষ নেতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারছি না। এমনকি উচ্চ আদালতে পবিত্র কুমার সরকার মামলা করলে ডিবি পুলিশ দিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। খুলনাবাসী সবকিছুই দেখছে।

তিনি বলেন, আগের আমলে মাদারীপুর আওয়ামী লীগের সভাপতির রেফারেন্সে কানাই লাল সরকার ট্রেজারার হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পান। ভিসি পদ শূন্য থাকায় আইন অনুযায়ী সে ভিসি হয়ে গেছে। এই কানাই লাল সরকার, শিক্ষক মাহরুফুর এবং ফারজানা জোট হয়ে মিজানুর রহমানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয় করার সুযোগ করে দিয়েছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল এখনো নিয়ন্ত্রণ করছেন। আর সামনে থেকে বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা না বুঝে, না জেনেই সাপোর্ট দিচ্ছেন। যার কারণে তসরুপ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ।

তিনি আরও বলেন, সেই শীর্ষ নেতা বিএনপি করেন। আমিও বিএনপি করি। কিন্তু আমাদেরকে দলতো চাঁদাবাজি কিংবা ধান্দাবাজি করতে বলেনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দাবিদার মিজানুর রহমান বলেন, বোর্ড সভায় আমি সবার সম্মতিক্রমে চেয়ারম্যান হয়েছি। ভার্সিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে আমি ভার্সিটির কাজ শুরু করি। পবিত্র কুমার সরকারকে আমি চিনি না। তাকে আমি কখনো দেখিনি। হাইকোর্টে পবিত্র কুমার সরকার মামলা করেছেন। এ বিষয়ে ভার্সিটি আমাকে জানিয়েছে।

ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যের বৈধতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জয়েন্ট স্টকে কাগজপত্র জমা দিয়েছি। সেটি অন প্রসেসিং আছে। খুব শিগগিরই হয়ে যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভিসি কানাই লাল সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মিজান সাহেব বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। তাকে আমরা তার কাজে সহযোগিতা করি। এছাড়া কিছু নয়।

এফএ/এমএস