দেশজুড়ে

বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে অতিষ্ঠ জনজীবন, বিপাকে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা

মৌলভীবাজারে গত কয়েকদিন ধরে তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং শুরু হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। এছাড়া দিন ও রাত মিলে প্রতিদিন ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন।

Advertisement

জানা গেছে, চৈত্র মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে জেলা শহরসহ জেলার ৭ টি উপজেলায় সমানভাবে লোডশেডিং করা হচ্ছে। সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা ও রাতে লোডশেডিং করা হয়। প্রতিদিন গড়ে ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে জেলার প্রায় ৫ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহক। হঠাৎ এই লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বলছে, সারা জেলায় আমাদের দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৫০ মেগাওয়াট। গ্রিড লাইন থেকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে সরবরাহ করা হয় মাত্র ৪৫ শতাংশ। চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে লোডশেডিং বেড়ে গেছে।

এদিকে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিদ্যুৎ নির্ভর স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা প্রদানও ব্যাহত হচ্ছে।

Advertisement

শমশেরনগর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমাদের ডিজিটাল মেশিনারিজ স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহে ভালো থাকে। আর ঘনঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় এসব মেশিনারিজের ক্ষতি হয়।

পতনঊষার উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থী শাহিদ আহমদ বলেন, একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে ভয়াবহ বিদ্যুৎ লোডশেডিং এই দুইটা মিলে আমাদের সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে। কয়েকদিন পরেই আমাদের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে এর মধ্যে ঘনঘন লোডশেডিং শুরু হয়েছে। সকাল, বিকাল ও রাতে যখনই পড়তে বসি তখনই বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে আমার মতো পরীক্ষার্থীদের কয়েকদিন আগেই এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে তা ভাবিনি।

জেলা শহরের ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বলেন, আমরা সন্ধ্যা ৭ টায় দোকান বন্ধ করতে হয়। আমার দোকান বিদ্যুৎ ছাড়া কোনো কাজ করা যায় না। ৫-৬ জন মানুষকে প্রতিদিন টাকা দিতে হয় তবে কাজ কিছুই হয় না। দিন-রাত সমানভাবে লোডশেডিং করা হচ্ছে।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, কয়েকদিন ধরে লোডশেডিং কিছুটা বেড়েছে। আমরা চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাচ্ছি। আসলে আগে মানুষের বিদ্যুতের চাহিদা কম ছিল এখন আগের তুলনায় কয়েকগুণ চাহিদা বেড়ে গেছে। বৃষ্টি হলে এই সমস্য সমাধান হবে। এছাড়া আমাদের প্রতিদিন প্রয়োজন ৫০ মেগাওয়াট সেখানে আমরা পাচ্ছি ২০-২২ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাচ্ছি আমরা। আশা করি দ্রুত এই সমস্যা সমাধান হবে।

Advertisement

এম ইসলাম/এনএইচআর/জেআইএম