দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৫৮টি বিমা কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১০টিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ রয়েছে। তবে এই অংশগ্রহণও অত্যন্ত সীমিত পরিসরে। এর মধ্যে আবার দুটি কোম্পানি থেকে বিদেশিরা বিনিয়োগ পুরোপুরি তুলে নিয়েছেন। এর বাইরে আরও একটি কোম্পানিতে বিনিয়োগের পরিমাণ কমিয়েছেন।
Advertisement
বিশ্লেষকদের মতে, বিমা খাতের প্রতি বিদেশিদের অনাগ্রহের পেছনে রয়েছে আস্থার ঘাটতি। দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানিগুলোর আর্থিক ভিত্তি দুর্বল থাকা, অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহকদের যথাসময়ে দাবির অর্থ পরিশোধে ব্যর্থতা খাতটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এই খাতে বিনিয়োগকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছেন। যে কারণে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
তারা বলছেন, একটি শক্তিশালী বিমা খাত একটি দেশের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাংলাদেশে এই খাত এখনও কাঙ্ক্ষিত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অর্জন করতে পারেনি। অনেক কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে অসঙ্গতি, লভ্যাংশ প্রদানে অনিশ্চয়তা এবং গ্রাহকসেবায় দুর্বলতা বিদেশিদের আস্থা নষ্ট করছে।
এছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর নজরদারির অভাবও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে মনে করেন বিশেশ্লেষকরা। তাদের মতে, সুশাসন নিশ্চিত করা না গেলে এবং গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষিত না হলে এখাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা কঠিন হবে। বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে বিমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক কাঠামো শক্তিশালী করা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
Advertisement
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৫৮ বিমা কোম্পানির মধ্যে সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ, গ্রীনডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, ন্যাশনাল লাইফ, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স এবং তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করেন।
আরও পড়ুনদেশের সব বিমা কোম্পানি এখন ‘অবৈধ’জীবন বিমায় বকেয়া দাবির পাহাড়, বিপর্যয়ে ৭ কোম্পানিঅসম করবোঝা-দুর্নীতি-প্রশাসনিক জটিলতা বিদেশি বিনিয়োগে বড় বাধা
এর মধ্যে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সব শেয়ার বিক্রি করে বিনিয়োগ তুলে নিয়েছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। এছাড়া ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার বিক্রি করে বিনিয়োগের একটি অংশ তুলে নেওয়া হয়েছে। মাত্র একটি কোম্পানিতে বিদেশিদের বিনিয়োগ সামান্য বেড়েছে। বাকি কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগ অপরিবর্তিত থাকলেও, সেই বিনিয়োগের পরিমাণ খুবই কম।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ রয়েছে গ্রীনডেল্টা ইন্স্যুরেন্সে। চলতি বছরের মার্চ শেষে কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ আছে বিদেশিদের কাছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষেই বিদেশিদের কাছে কোম্পানিটির একই শেয়ার ছিল।
Advertisement
বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মূলত ঝুঁকি ও রিটার্নের ভারসাম্যের দিকে নজর দেন। তারা এমন কোম্পানি খোঁজেন যেগুলোর আয়ের ধারাবাহিকতা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সুযোগ আছে
এদিকে, ২০২৪ সাল শেষে ন্যাশনাল লাইফের দশমিক ১৮ শতাংশ শেয়ার ছিল বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে। চলতি বছর তা শূন্যে নেমে এসেছে। অর্থাৎ, কোম্পাটির সব শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। একই অবস্থা সমস্যায় পতিত হওয়া ফারইস্ট ইসলামী লাইফে। ২০২০ সালে কোম্পানিটির ১ দশমিক ১২ শতাংশ শেয়ার ছিল বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে। চলতি বছরের মার্চ শেষে তা শূন্য হয়ে গেছে।
পুরোপুরি বিনিয়োগ তুলে নেওয়া না হলেও ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের প্রায় অর্ধেক শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কোম্পানিটির দশমিক ১১ শতাংশ শেয়ার ছিল বিদেশিদের কাছে। এরই মধ্যে কোম্পানিটির দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ শেয়ার বিদেশিরা বিক্রি করে দিয়েছেন। ফলে মার্চ শেষে বিদেশিদের কাছে কোম্পানিটির দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ শেয়ার আছে।
বিদেশিদের বিনিয়োগ বেড়েছে একমাত্র কোম্পানি প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে। ২০২৪ সাল শেষে কোম্পানিটির দশমিক ১৫ শতাংশ শেয়ার ছিল বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে। চলতি বছরের মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দশমিক ১৮ শতাংশ। অর্থাৎ, নতুন করে বিদেশিরা কোম্পানিটির দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ শেয়ার কিনেছেন।
বিদেশিদের বিনিয়োগ থাকা বাকি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের দশমিক শূন্য ১ শতাংশ, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের দশমিক শূন্য ১ শতাংশ, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের দশমিক ১৬ শতাংশ এবং তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সর দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ শেয়ার আছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিও নিয়ে কাজ করা একটি ব্রোকারেজ হাউজের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মূলত ঝুঁকি ও রিটার্নের ভারসাম্যের দিকে নজর দেন। তারা এমন কোম্পানি খোঁজেন যেগুলোর আয়ের ধারাবাহিকতা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সুযোগ আছে।
তিনি বলেন, বিমা খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো স্বচ্ছতার ঘাটতি ও তথ্য প্রকাশের দুর্বলতা। অনেক ক্ষেত্রে কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক অবস্থা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি বাড়ায়। তাছাড়া করপোরেট গভর্ন্যান্স দুর্বল হলে এবং পরিচালনা পর্ষদে জবাবদিহি কম থাকলে বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারান।
তিনি আরও বলেন, অনেক বিমা কোম্পানির শেয়ারের লিকুইডিটি কম, ফলে সহজে শেয়ার কেনাবেচা করা যায় না, এটিও বিদেশিদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করে। এছাড়া আমাদের দেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা বিমা কোম্পানিগুলোতে স্বচ্ছতার অভাব। বেশিরভাগ বিমা কোম্পানি গ্রাহকদের দাবির টাকা ঠিকমতো পরিশোধ করে না। এটি এ খাতের বিশাল ইমেজ সংকট তৈরি করেছে। এসব কারণেই বিমা কোম্পানির শেয়ারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের আগ্রহ কম।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) একজন সদস্য বলেন, বিমা খাতের মুনাফার ধারাবাহিকতা ও প্রবৃদ্ধি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। অনেক কোম্পানির আয় স্থিতিশীল নয় এবং বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত রিটার্ন পাওয়া যায় না। এছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থার পর্যাপ্ত তদারকি না থাকা, দাবি (ক্লেইম) নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা এবং গ্রাহক আস্থার ঘাটতি রয়েছে। এসব বিষয় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নেতিবাচক সংকেত দেয়।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার অভাবও এখাতে বিনিয়োগের আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে। একসময় ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ভালো ব্যবসা করেছে এবং কোম্পানিটির ভালো সম্পদ ছিল। অসচ্ছতা এবং দুর্নীতি-অনিয়মের কারণে এই কোম্পানিটি বর্তমানে হায়হায় কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। একই অবস্থা পদ্মা ইসলামী লাইফের। এছাড়া অতালিকাভুক্ত বেশ কিছু বিমা কোম্পানির আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। ফলে বিমা খাতে চরম আস্থা সংকট বিরাজ করছে। এসব কারণেই বিমা কোম্পানির শেয়ারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম।
বিমা খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা ইমেজ সংকট। কিছু কোম্পানি গ্রাহকদের ঠিকমতো দাবি পরিশোধ না করায় এই ইমেজ সংকট তৈরি হয়েছে। আবার একসময় বড় কোম্পানি ছিল, এমন একাধিক কোম্পানি এখন দেউলিয়ার পথে
তিনি আরও বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। একটি দেশের নীতিমালা যদি ধারাবাহিক ও বিনিয়োগবান্ধব হয়, তাহলে তারা সেই বাজারে আগ্রহী হন। এছাড়া কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন কতটা স্বচ্ছ, করপোরেট গভর্ন্যান্স কেমন এবং বাজারে লিকুইডিটি কতটা আছে এসব বিষয়ও তারা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেন। দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকলে বিদেশিরা বিনিয়োগে বেশি আগ্রহ দেখান।
একটি বিমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বলেন, বিমা খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা ইমেজ সংকট। কিছু কোম্পানি গ্রাহকদের ঠিকমতো দাবি পরিশোধ না করায় এই ইমেজ সংকট তৈরি হয়েছে। আবার একসময় বড় কোম্পানি ছিল, এমন একাধিক কোম্পানি এখন দেউলিয়ার পথে। ফলে সার্বিকভাবে বিমা কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদেশিরা আস্থা পাচ্ছেন না। তারা হয়তো ভাবছেন এখন ভালো আছে, কিন্তু যে কোনো সময় এসব ভালো কোম্পানির আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়ে যেতে পারে। যে কারণে বর্তমানে ভালো অবস্থায় থাকলেও কিছু কোম্পানিতে বিদেশিদের বিনিয়োগ নেই।
আরও পড়ুনশেয়ারবাজারে ফিরছে বিদেশিরা, সক্রিয় স্থানীয় বিনিয়োগকারীরাওথামছে না বিদেশিদের শেয়ারবাজার ছাড়ার প্রবণতাবিদেশ থেকে ঋণ নিয়ে দেশে ঋণ শোধ করছে সরকার
প্রগতি লাইফের সিইও মো. জালালুল আজিম জাগো নিউজকে বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির আর্থিক অবস্থা বুঝেই বিনিয়োগ করেন। তারা কোম্পানির লাইফ ফান্ড, দাবি পরিশোধের সক্ষমতা, সম্পদের পরিস্থিতি, লভ্যাংশ কেমন দেয় সবকিছু দেখেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। যেহেতু আমাদের দেশের বেশিরভাগ বিমা কোম্পানির অবস্থা ভালো নয়, সেহেতু তারা এ খাতে বিনিয়োগ করবে না। ওরা তো আমাদের মতো হুজুগে বিনিয়োগ করে না।
তিনি বলেন, বিমা কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের দাবির টাকা ঠিকমতো পরিশোধ করতে পারছে না, এর অর্থ হলো কোম্পানিতে টাকা নেই। টাকা নেই মানে সেই কোম্পানি ঠিকমতো চলতে পারছে না। এসব কারণে বিমা কোম্পানির প্রতি মানুষের আস্থা সংকট তৈরি হয়েছে। তারই প্রতিফলন শেয়ারবাজারের বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিমার শেয়ারে বিনিয়োগ করছেন না।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে দেশে ব্যবসা করা ৩৬টি জীবন বিমা কোম্পানিতে বিমা দাবি উত্থাপিত হয় ৫ হাজার ৯৮৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকার। বিপরীতে কোম্পানিগুলো পরিশোধ করেছে ২ হাজার ১০৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা
এই আস্থার সংকট কীভাবে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব—এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এটা কঠিন। আস্থা ফেরাতে হলে বিমা দাবির টাকা ঠিকমতো পরিশোধ করতে হবে। এখন কিছু কোম্পানিতে দাবির টাকা পরিশোধ করার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। যেহেতু তারা ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে, সুতরাং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা সরকারের পক্ষ থেকে এসব কোম্পানির বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। কিন্তু সেটা তো নিতে পারবে না।
বিমা খাতের চিত্র এদিকে বিমা দাবির টাকা সময়মতো পরিশোধ না করা, তহবিল আত্মসাৎ এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে দেশের বিমা খাতে গভীর আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে সরাসরি গ্রাহক সংখ্যায়। গত আড়াই বছরে দেশে জীবন বিমায় সক্রিয় পলিসি কমেছে ১০ লাখের বেশি।
বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে জীবন বিমা খাতে চালু পলিসির সংখ্যা ছিল ৭৮ লাখ ৯ হাজার ১২১টি। ধারাবাহিকভাবে ২০২৫ সালের জুন শেষে চালু পলিসির সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৯৭টি। আড়াই বছরে কমেছে ১০ লাখ ২৫ হাজার ৯২৪টি।
আইডিআরএ’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে দেশে ব্যবসা করা ৩৬টি জীবন বিমা কোম্পানিতে বিমা দাবি উত্থাপিত হয় ৫ হাজার ৯৮৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকার। বিপরীতে কোম্পানিগুলো পরিশোধ করেছে ২ হাজার ১০৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা। দাবি বকেয়া রয়েছে ৩ হাজার ৮৮০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ ৩৫ শতাংশ বিমা দাবি পরিশোধ করা হয়েছে এবং ৬৫ শতাংশ বিমা দাবি বকেয়া রয়েছে।
জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর মতো সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলোতেও বকেয়া দাবির পাহাড় জমেছে। আইডিআরেএ’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল-জুন সময়ে সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলোর কাছে গ্রাহকরা ৩ হাজার ৬০৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকার দাবি উত্থান করে। বিপরীতে কোম্পানিগুলো ৩০০ কোটি ১ লাখ টাকার দাবি পরিশোধ করে। অর্থাৎ, সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলোতে গ্রাহকদের ৩ হাজার ৩০৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বা ৯২ শতাংশ দাবির টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে।
এমএএস/এমকেআর/এমএফএ