প্রবাস

মালয়েশিয়ার সারাওয়াকে বাংলাদেশি শ্রমবাজার সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ

মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মন্জুরুল করিম খান চৌধুরী সারাওয়াকের প্রিমিয়ার আবাং আবদুল রাহমান জোহারির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

Advertisement

বুধবার (১৫ এপ্রিল) প্রিমিয়ারের কার্যালয়ে বৈঠক ছিল উষ্ণ ও আন্তরিক, যা বাংলাদেশ ও সারাওয়াকের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের একটি ইতিবাচক প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৈঠকে উভয়পক্ষ কৃষি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং শ্রম অভিবাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। হাইকমিশনার বাংলাদেশের কৃষিখাতে অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের সক্ষমতা তুলে ধরেন।

তিনি সারাওয়াকের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের আগ্রহ ব্যক্ত করেন এবং বিশেষ করে দক্ষ, অর্ধদক্ষ ও সাধারণ শ্রমিক সরবরাহ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

Advertisement

সারাওয়াকের প্রিমিয়ার প্রস্তাবগুলোকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন এবং কৃষি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে রাজ্যের উন্নয়ন কৌশলের কেন্দ্রীয় খাত হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, এই দুই খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো সারাওয়াকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি নির্মাণ খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অবদানের প্রশংসা করে ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক দক্ষ ও সাধারণ কর্মী নিয়োগে নীতিগত সম্মতি প্রদান করেন।

বৈঠকে শ্রম অভিবাসনকে আরও সুসংগঠিত ও স্বচ্ছ করতে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, যা উভয় পক্ষই স্বাগত জানায়। পাশাপাশি কৃষিখাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য পৃথক একটি এমওইউ স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও গুরুত্বসহকারে আলোচনা করা হয়। এর মাধ্যমে কৃষি প্রযুক্তি, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষতা বিনিময়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও উভয় পক্ষ সম্ভাবনাময় সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করেন। বিশেষ করে সৌরশক্তি ও সবুজ প্রযুক্তি উন্নয়নে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এতে করে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি উভয় পক্ষের জন্য অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনতে পারে বলে মত প্রকাশ করা হয়।

Advertisement

আলোচনা শেষে উভয় পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার পাশাপাশি নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যেন আলোচনার বিষয়গুলো বাস্তব ফলাফলে রূপ নেয়। এই বৈঠককে ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আরও বিস্তৃত ও গভীর সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এ সময় প্রিমিয়ারের দপ্তরের উপমন্ত্রী (শ্রম, অভিবাসন ও প্রকল্প তদারকি) গেরাওয়াত গালা-সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে হাইকমিশনার ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারিং (এফএমএম) এবং সারাওয়াক বিজনেস ফেডারেশন (এসবিএফ)-এর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।

এসব বৈঠকে বাংলাদেশ ও সারাওয়াকের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতে ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা (বিটুবি) সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। শিল্প, উৎপাদন, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে দুই পক্ষের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক এবং পরবর্তী আলোচনাগুলো বাংলাদেশ ও সারাওয়াকের মধ্যে অর্থনৈতিক, কারিগরি এবং মানবসম্পদভিত্তিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। বিশেষ করে শ্রমবাজার, কৃষি উদ্ভাবন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা উভয় পক্ষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এমআরএম