তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে এখন ঢাকায় নিউজিল্যান্ড দল। তবে এই দলে একাধিক নতুন মুখ দেখা গেছে। নিয়মিত অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারসহ একাধিক তারকা নেই এই দলে। একই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে খেলছেন নিউজিল্যান্ডের অর্ধশতাধিক ক্রিকেটার। এ কারণে বিষয়টিকে দেশের ক্রিকেট কাঠামোর জন্য বড় ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন নিউজিল্যান্ড পুরুষ দলের প্রধান কোচ রব ওয়াল্টার।
Advertisement
বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের জাতীয় দল বাংলাদেশে। একই সময়ে তাদের ‘এ’ দল রয়েছে শ্রীলঙ্কায়, যেখানে তারা প্রথম শ্রেণির ম্যাচ ও ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে। পাশাপাশি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ ও পাকিস্তান সুপার লিগ–এ মিলিয়ে খেলছেন আরও ১৮ জন কিউই ক্রিকেটার।
এ নিয়ে নিউজিল্যান্ডের হেড কোচ ওয়াল্টার বলেন, ‘আমরা যদি পুরো দলটাকে শ্রীলঙ্কায় পাঠাতাম এবং পরে তাদের এখানে নিয়ে আসতাম, তাহলে শ্রীলঙ্কায় আরও ১২ জন ক্রিকেটারকে তাদের দক্ষতা উন্নত করার সুযোগ দেওয়ার সুযোগটা হাতছাড়া হয়ে যেত। আমরা যতটা সম্ভব আমাদের সুযোগগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। শোনা যাচ্ছে, এই মুহূর্তে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় — আইপিএল, পিএসএল, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কায় মোট ৫৪ জন নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটার খেলছে। এটা আমাদের দেশের চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের প্রায় অর্ধেক। তাই আমাদের জন্য এটা বিশাল ইতিবাচক বিষয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনেক ক্রিকেটারকে বিভিন্ন স্তরে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করছি, যাতে শুধু একটি ছোট গ্রুপ নয় বরং পুরো ব্যবস্থাটাই শক্তিশালী হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট যে কঠিন, সেটা আমরা জানি, কারণ অনেক সময় ক্রিকেটারদের বিভিন্ন জায়গায় খেলতে যেতে হয়। তাই আমাদের সেটা সামলাতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যে আমরা প্রস্তুত আছি। আমরা যেই দলের বিপক্ষেই খেলি না কেন, আমাদের কাছে এমন বেশ কিছু ক্রিকেটার থাকবে যারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত। তাই যে সুযোগ ও সফরগুলো পাচ্ছি, সেগুলোকে যতটা সম্ভব বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজে লাগাতে চাই।’
Advertisement
বাংলাদেশ সফরে আসা নিউজিল্যান্ড দলে এমন কয়েকজন ক্রিকেটার আছেন যারা গত বছর মে মাসে ‘এ’ দলের হয়ে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। তাদের মধ্যে আছেন আদিত্য অশোক, বেন লিস্টার, ডিন ফক্সক্রফট, জেডেন লেনক্স, জশ ক্লার্কসন, মোহাম্মদ আব্বাস এবং নিক কেলি।
এ ছাড়া বাংলাদেশে আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে উইল ইয়াং ও হেনরি নিকোলসেরও।
ওয়াল্টার বলেন, ‘এই দলে এমন কয়েকজন ক্রিকেটার আছে যারা আগে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ সিরিজ খেলতে এখানে এসেছিল। মিরপুরে যে ম্যাচটি হয়েছিল সেটি ছিল চার দিনের ম্যাচ, তবে এর আগে এই কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা থাকা অবশ্যই ভালো। সিরিজটি হয়েছিল মে মাসে, তাই সময়টাও প্রায় একই ধরনের। বাংলাদেশে আগে খেলার এমন অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে ভালো অবস্থানে থাকতে সাহায্য করে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের জন্য এটা সবসময়ই ইতিবাচক, যদি আমরা যাদের ‘পরবর্তী সারির’ ক্রিকেটার বলতে চাই, তাদের শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলানোর সুযোগ পাই। আমার মনে হয় বাংলাদেশ একটি শক্ত দল। তারা সম্প্রতি পাকিস্তানকে হারিয়েছে। তাই বিদেশের কন্ডিশনে কম অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের এমন শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলানোর সুযোগ পাওয়া আমাদের জন্য খুবই ইতিবাচক।’
Advertisement
এসকেডি/আইএন