সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী হওয়ার পর মাহফুজ আলম দৃষ্টিকটু আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেছেন লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম।
Advertisement
বুধবার (১৫ এপ্রিল) মাহফুজ আলমের এক ফেসবুক পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে নিজের ফেসবুক পেজে এই অভিযোগ করেন শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি জানান, সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম রামগঞ্জের উন্নয়নের প্রশ্নে সম্পূর্ণ ব্যর্থ—এটা এখন আর আড়াল করার সুযোগ নেই।
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বুধবার সংসদ অধিবেশনে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের দেবিদ্বার অংশ সংস্কারের দাবি জানান। তিনি সংসদে বলেন, এই মহাসড়কটি ছয় লেনের হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে এটি মাত্র ১৮ ফিট প্রশস্ত হয়ে আছে। এ অবস্থার কারণে আমি এলাকায় মুখ দেখাতে পারি না। আপনাদের কাছে আমি ভিক্ষা চাই, দ্রুত রাস্তাটি করে দিন।
এরপরই এক ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ লেখেন, আজকে হাসনাতের সংসদে ‘আকুতি’ দেখে মনে পড়ল যে, রামগঞ্জ-লক্ষ্মীপুরের উন্নয়নের জন্য ৪/৫ জন উপদেষ্টার কাছে গিয়েও কোনো হেল্প পাইনি। তাদের সাথে কয়েকবার দেখা করেছি। ডিও লেটার দিয়েছি। সেসব লেখার সময় এখনো আসেনি। এতটুকু বলতে পারি যে, একটি রাজনৈতিক দলের চাপে/সিদ্ধান্তে উনারা আমার এলাকায়/আমাকে কোনো সহযোগিতা করেননি।
Advertisement
মাহফুজ আলম তার ফেসবুকে লেখেন, হাসনাত বলসেন এলাকায় মুখ দেখাতে পারবেন না। আর, আমার মুখটা ঢেকে দিয়েছিলেন আমার সহকর্মীগণ! খোদা তাদের মঙ্গল করুন। অন্তরীণ সরকার কিভাবে চলত, এটা নিয়ে কত মিথ্যা আর গুঞ্জন হলো। গুঞ্জন আর নানা হিসাবের বাইরে তো অনেক সত্য আছে!!
আরও পড়ুন৪/৫ জন উপদেষ্টার কাছে গিয়েও কোনো হেল্প পাইনি: মাহফুজ১০ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে ভিক্ষা চাই, দ্রুত রাস্তাটি করে দিন
মাহফুজের পোস্ট দেখে ফেসবুকে পাল্টা পোস্ট দেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি লেখেন, ‘মাহফুজ আলম—এই নামটি আমি আগে কখনো শুনিনি। তবে তার বাবা বাচ্চু মোল্লা, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন। আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে তিনি গ্রেফতার হলে আমি নিজ উদ্যোগে থানার ওসির সঙ্গে কথা বলে তাকে মুক্ত করার ব্যবস্থা করি।’
‘ড. ইউনুস ক্ষমতায় আসার পর একদিন বাচ্চু মোল্লার বাসায় সাংগঠনিক একটি মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। সেদিন রাতেই টেলিভিশনে জানতে পারি, মাহফুজ আলম প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তখন আনন্দের সাথে তার বাবাকে বলেছিলাম, ১০ কেজি মাংস ও ১০ কেজি আলু বেশি রান্না করতে।’
Advertisement
শাহাদাত হোসেন সেলিম লেখেন, ‘বিশেষ সহকারী হওয়ার দুই-তিন দিনের মধ্যেই আমাদের সাথে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাতে প্রধান উপদেষ্টার এক বৈঠকে মাহফুজ উপস্থিত না থেকে কিছুটা দূরে অবস্থান করছিল। আমি তার সঙ্গে একটি ছবি তুলতে চাইলে তিনি অনীহা প্রকাশ করেন এবং অত্যন্ত দৃষ্টিকটু আচরণ করেন—যা আমাকে বিস্মিত করেছে, এবং সহকর্মীদের নিকট আমি অপমানিত হয়েছি।’
মাহফুজের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রামগঞ্জের এই সংসদ সদস্য লেখেন, ‘উপদেষ্টা থাকাকালীন রামগঞ্জের দৃশ্যমান উন্নয়নে তার কোনো অবদান চোখে পড়েনি। অথচ সে সময় তার হাতে যথেষ্ট ক্ষমতা ছিল। রামগঞ্জের উন্নয়নের প্রশ্নে তিনি সম্পূর্ণ ব্যর্থ—এটা এখন আর আড়াল করার সুযোগ নেই। কথার ফুলঝুরি বা অজুহাত দিয়ে বাস্তবতা ঢেকে রাখা যায় না। রামগঞ্জের প্রতি তার কোনো বাস্তব আগ্রহ কখনোই দেখা যায়নি।’
শাহাদাত হোসেন সেলিমের এই অভিযোগের ব্যাপারে মাহফুজ আলমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শাহাদাত হোসেন সেলিম চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদকও ছিলেন তিনি। প্রায় দেড় যুগ আগে তিনি বিএনপি ছেড়ে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিতে (এলডিপি) যোগ দেন। কিন্তু দলটির জাতীয় কমিটিতে জায়গা না পেয়ে ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর তিনি বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (বিএলডিপি) গঠন করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শাহাদাত হোসেন সেলিম বিএলডিপি ‘বিলুপ্ত’ ঘোষণা করে বিএনপিতে যোগ দেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জামায়াত জোটের প্রার্থী, মাহফুজ আলমের ভাই এনসিপির মাহবুব আলমকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মাহফুজ আলম প্রথমে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী ছিলেন। ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর তিনি উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর তিনি উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
এমএমএআর