রাজধানীর কেরানীগঞ্জে চীনা নাগরিক পরিচালিত একটি ফ্যাক্টরিতে ডাকাতির ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
Advertisement
র্যাব বলছে, মূলত অভাবের তাড়নায় নিজেদের স্বাভাবিক কাজকর্মের পাশাপাশি তারা ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১০ এর অধিনায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এসব জানান।
গ্রেফতাররা হলেন- মাসুদ রানা (৪৩), নাসির পিয়াদা (৪০), হৃদয় মীর (২২), রোমান শেখ (৩৪), মো. মামুন (৩২)।
Advertisement
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, গত ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় ১৫-২০ জনের ডাকাতদল কেরানীগঞ্জে চীনা নাগরিক পরিচালিত ইয়াংজিয়াং ফ্যাক্টরির মেইন গেটে আসে। মূলত সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ফ্যাক্টরির শ্রমিকদের শিফটিং টাইম। এই সময় ফ্যাক্টরির মেইন গেট খোলা থাকে। ঠিক ৭টা ১০ মিনিটে ডাকাতদল মেইন গেটে আসে। তারা মেইন গেটের ছিটকিনি খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। ভেতরে ঢুকে প্রথমে গার্ড রুমে থাকা দুই গার্ডকে বেঁধে ফেলে। এরপর তারা বামপাশে তাদের যে অফিসিয়াল দোতলা বিল্ডিং আছে, সেখানে যায়। সেই বিল্ডিংয়ে গিয়েই একজন চীনা নাগরিককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে।
প্রাথমিক তদন্তের তথ্য জানিয়ে এই র্যাব কর্মকর্তা বলেন, ডাকাতরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে যায়। একটা দল মেইন গেটের বাইরে থাকে। আরেকটা দল থাকে মেইন গেটের ভেতরে, যারা এই গার্ডদের নিয়ন্ত্রণ করছিল। আরেকটা দল গ্রাউন্ড ফ্লোরে চীনা নাগরিককে জিম্মি করে রাখে। আরেকটা দল উপরে চলে যায় এবং বিভিন্ন জায়গায় মালামাল, টাকা-পয়সা লুট করতে থাকে।
এরপর তারা ওই ভবনের ভেতরে যেসব সিসি ক্যামেরা ছিল সেগুলো ভেঙে ফেলে। যখন তারা বিভিন্ন মালামাল লুট করতে থাকে, তখন একজন চীনা নাগরিক তাদের বাধা দিলে ধারালো ছুড়ি দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই আমাদের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য ও সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে। ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার সময় ভুলে তাদের একটা ফোন রেখে যায়। সেটার সূত্র ধরেই আমরা আমাদের আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করি। এই ডাকাতির ঘটনায় যারা অংশগ্রহণ করেছে আমরা তাদের অনেককেই শনাক্ত করতে সফল হই এবং শেষ পর্যন্ত আমরা পাঁচজনকে গ্রেফতার করি। থানা পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করে। আমরা তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত তিনটি বিদেশি দামি ব্র্যান্ডের ঘড়ি, দুটি মোবাইল ফোন এবং ১৫ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করি।
Advertisement
লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার অভিযান এবং গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছি তারা কেরানীগঞ্জের এবং মুন্সিগঞ্জের বাসিন্দা। এরা প্রত্যেকেই কোনো না কোনো পেশার সঙ্গে জড়িত। কেউ অটোচালক, কেউ রঙমিস্ত্রি, রডমিস্ত্রি, বাসচালক। তারা এসব সাধারণ কার্যক্রমের পাশাপাশি এই ধরনের (ডাকাতি) কার্যক্রম করে থাকে।
র্যাব-১০ এর অধিনায়ক আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পেরেছি, তারা মোটামুটি তাদের দারিদ্র্যের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে।
কেআর/ইএ